ঢাকার আকাশে মিথেন গ্যাসের আধিক্যের কারণ কী?

ঢাকা শহরে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির খবরটি প্রথম প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ, যাদের সংবাদের তথ্যের উৎস ফ্রান্সের একটি প্রতিষ্ঠান, যে প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত চিত্র বিশ্লেষণে অভিজ্ঞ।

প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত কোপারনিকাস প্রোগ্রামের অধীনে বিশ্বের কক্ষপথে উেক্ষপিত সেন্টিনেল সিরিজের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ-২ (২০১৫ সালে উেক্ষপিত) ও ৫ পি (২০১৭ সালে উেক্ষপিত)-এর তথ্য বিশ্লেষক ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি।

এ দুটি কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের কাজ হলো বিশ্বের চারপাশে ঘুরে বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন গ্রিনহাউজ গ্যাসের মান পরিমাপ করা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোপারনিকাস তথ্য শেয়ারিং প্রোগ্রামের আওতায় সংগৃহীত তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এ তথ্য ব্যবহারে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না।

উল্লিখিত দুটি কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত চিত্র ব্যবহার করে ফ্রান্সের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শহরের চারটি স্থানে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি চিহ্নিত করেছে।

কম্পিউটার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানটি উল্লিখিত দুটি কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রায় নির্ভুলভাবে কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলে নির্গত মিথেন গ্যাসের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারে।

এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আমেরিকার টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকো রাজ্যে অবস্থিত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইনে সৃষ্ট লিক থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস শনাক্ত করে। পরবর্তী সময়ে এটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর দুদিন পরে ২৬ সেপ্টেম্বর সেটি মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ কোম্পানিটি।

পরবর্তী সময়ে কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত চিত্র বিশ্লেষণ করে কোম্পানিটি খুঁজে পায় যে পাইপলাইনে এ লিক হয়েছে ২০২০ সালের ৪ জুলাই। পাইপলাইনটি লিক হওয়ার পরে ঘণ্টায় ৫ থেকে ২০ টন মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে থাকে। ৪ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহটি ১২ সপ্তাহে মোট ১২ বার মিথেন গ্যাসের নির্গমন শনাক্ত করে।

এর প্রধান কারণটি হলো সেন্টিনেল ৫পি কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহটি বিশ্বের একই স্থানের ওপর দিয়ে ভ্রমণ করে সাতদিন পরপর। মহাকাশবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় রি-ভিজিট টাইম। উপগ্রহটি ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ এবং ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকার আলোচ্য স্থানগুলোয় উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির চিত্র ধারণ করে।

এ সপ্তাহগুলোর আগে কিংবা পরের সপ্তাহে যখন কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ দুটি ঢাকা শহরের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে তখন ধারণ করা চিত্রে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে সাময়িকভাবে কোনো উৎস থেকে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল ঢাকার ওইসব স্থানে নির্দিষ্ট দিনে কিংবা তার আগের কয়েক দিনে।

বছরের যে মাসে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে তা ছিল শীতকাল। তখন সূর্যের তীব্রতা থাকে বছরের সর্বনিম্ন। এ সময় ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়া কোনো গ্যাসীয় পদার্থ বা ধোঁয়া সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। ফলে এ সময়ে বায়ুতে নির্গত গ্যাস দীর্ঘ সময় ধরে উৎসস্থল ও তার আশপাশে জমা হয়।

আমরা স্কুলের বিজ্ঞান ক্লাসে শিখেছি যে বেশি ঘনত্বের তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কম ঘনত্বের স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা শহরের যে চারটি স্থানে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছে কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ, তার চিত্রটি দেখলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে প্রায় প্রতিটি স্থানের একদিকে মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব খুবই বেশি এবং এ ঘনত্ব আস্তে আস্তে কমে গেছে, বেশি ঘনত্বের স্থান থেকে দূরত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে।

বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের প্রাকৃতিক প্রধান পাঁচটি উৎস হলো জলাভূমি (ওয়েট ল্যান্ড), ময়লার ভাগাড় (ল্যান্ড ফিল), পশু খামার, পানিতে নিমজ্জিত ধানক্ষেত। স্থায়ী জলাভূমিতে রাতের অন্ধকারে অনেক সময় আগুন দেখা যায় কিছু সময়ের জন্য, যা গ্রামের মানুষের কাছে ভূতের আগুন বা আলেয়া নামে পরিচিত।

প্রকৃতপক্ষে জলাভূমিতে জৈব পদার্থ পচে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়, যা বুদ্বুুদ আকারে পানির নিচ থেকে পানির ওপরে উঠে আসে এবং অনেক সময় বাতাসের সংস্পর্শে তা জ্বলে ওঠে। হাতিরঝিল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরে সেখানকার এলাকাবাসীর মনে দীর্ঘদিন ধরে পচা গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়ার হাসি ফুটে উঠলেও সেই হাসি দুই বছরের মাথায় মিলিয়ে যায় যখন বর্ষা শেষ হতে না হতে প্রকট গন্ধ ভেসে আসতে থাকে।

দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘দূষণ, দুর্গন্ধ হাতিরঝিলে’। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘পর্যাপ্ত পানি পরিশোধনের ব্যবস্থা না থাকায় হাতিরঝিলের পানির গুণগত মান খারাপ হতে হতে প্রকট আকার ধারণ করেছে।

পয়োনিষ্কাশনের ময়লা, আবর্জনা ও নোংরা পানি ঢুকে বিবর্ণ হয়ে উঠেছে ঝিলের পানি। বাতাসে উত্কট গন্ধ। হাতিরঝিল ঘুরে দেখা গেছে, ঝিলের প্রায় সব অংশ থেকেই পচা পানির দুর্গন্ধ ভাসছে বাতাসে। তবে ঝিলের মগবাজার অংশে এই দুর্গন্ধ ভয়ানক আকার নিয়েছে।’

উল্লিখিত সংবাদ দুটির কারণে আমি ভাবতে বাধ্য হয়েছিলাম যে হাতিরঝিলের পাশে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির সম্ভাব্য কারণ হয়তো ওই স্থানের পানিতে পচা জৈব পদার্থ থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস।

হাজারীবাগ ও তার আশপাশে মিথেন গ্যাসের উৎস হিসেবে আমার প্রাথমিক ধারণা হয়েছে হাজারীবাগের চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোকে। এর কারণটি নিচে ব্যাখ্যা করছি।

একটি কাঁচা চামড়া থেকে ব্যবহারযোগ্য চামড়া তৈরির প্রক্রিয়ায় কাঁচা চামড়ার ওজনের ৮৫ শতাংশই বর্জ্য পদার্থে পরিণত হয়। আরো সহজ ভাষায় বলা যায়, ১০০ কেজি ওজনের কাঁচা চামড়া থেকে মাত্র ১৫ কেজি ব্যবহারযোগ্য চামড়া উৎপাদিত হয় এবং ৮৫ কেজি বর্জ্য পদার্থ উৎপাদিত হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চামড়া প্রযুক্তি বিভাগের গবেষকদের (আবুল হাসেম, সামসুল আরেফিন, ও আবু জর) ২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ২২০টি চামড়া তৈরির কারখানা রয়েছে, যার ৮২ শতাংশ ঢাকার হাজারীবাগে অবস্থিত।

একই প্রবন্ধের তথ্যমতে, ২১৯টি কারখানার নিজস্ব বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা নেই। এসব কারখানায় উৎপাদিত রাসায়নিক বর্জ্য পুরোটাই অপরিশোধিত অবস্থায় ড্রেনে চলে যায়। তাদের গবেষণা প্রবন্ধে আরো বলা হয়েছে, কারখানাগুলো প্রতিদিন ২৪০ টন কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে, যা থেকে দৈনিক প্রায় ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য ও ৯৮ টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়।

বলা হয়ে থাকে, কোনো মানুষ কোনো একদিন হাজারীবাগের রাস্তা দিয়ে রিকশায় করেও যদি চলাচল করে, সে আমৃত্যু সেই গন্ধ ভুলতে পারবে না। এ দুর্গন্ধের কারণ হলো উল্লিখিত ৮৫ শতাংশ বর্জ্য পদার্থ, যা চামড়া প্রক্রিয়াকরণের সময় উত্পন্ন হয়। কারখানার গুদামে সংরক্ষিত কাঁচা চামড়ার বড় একটি অংশ প্রক্রিয়াজাত করার আগেই নষ্ট হয়ে যায়।

যেকোনো জৈব পদার্থ পচে গেলে মিথেন গ্যাস উত্পন্ন হয়। যে কারণে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোয় গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে সেই গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু চামড়ার কারখানাগুলোর অধিকাংশই হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হয়েছে।

২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাজারীবাগ ও তার আশপাশে মিথেন গ্যাসের যে ঘনত্ব পাওয়া গেছে, তা চামড়া কারখানাগুলো থেকে নির্গত হয়ে থাকার সম্ভাবনা নেই।

ঢাকার গাবতলী এলাকায় মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির জন্য প্রাথমিক কারণ হিসেবে ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় পশু বেচা-কেনার স্থান গাবতলীর গরুর হাটকে ধারণা করা হয়েছিল। মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণী খাদ্য খাওয়ার পরে হজম প্রক্রিয়ায় পাকস্থলীতে মিথেন গ্যাস উত্পন্ন হয় ও পায়ুপথের মাধ্যমে তা বাতাসে নির্গত হয়।

দৈহিক গঠন প্রক্রিয়ার কারণে জাবর কাটা পশুর পাকস্থলীতে উৎপাদিত মিথেন গ্যাসের পরিমাণ অন্যান্য প্রাণী অপেক্ষা অনেক বেশি। একটি গরু বছরে গড়ে ২২০ পাউন্ড মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নির্গত করে। খোলা মাঠে বিচরণ করা গরু অপেক্ষা বদ্ধ খামার কিংবা ঘরে লালন-পালন করা গরু বেশি পরিমাণ মিথেন গ্যাস নির্গত করে তাদের খাদ্যের প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ার কারণে।

গাবতলীর পশুর হাটে স্বল্প স্থানে অনেক বেশি পরিমাণ গরু-ছাগল-ভেড়া থেকে অনেক বেশি পরিমাণ মিথেন গ্যাস নির্গত করলেও সে স্থানে যে পরিমাণ মিথেন গ্যাসের ঘনত্ব পরিমাপ করেছে কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ, তা ওই প্রাণীগুলো থেকে নির্গত করা সম্ভব না।

একই চিত্রে দেখা যাচ্ছে, আমিনবাজারে অবস্থিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড়ের আশেপাশে মিথেন গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মিথেন গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি দেখা গেছে সংসদ ভবন এলাকায়, যার আশপাশে কোনো জলাভূমি বা গরুর হাট অথবা চামড়ার কারখানাও নেই কিংবা পানিত নিমজ্জিত কোনো ধানক্ষেতও নেই। এ স্থানে মিথেন গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি আমাকে বাধ্য করে মিথেন গ্যাসের নতুন কোনো উেসর সন্ধান করতে।

গুগল ম্যাপের সাহায্য নিয়ে দেখতে পেলাম কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত চিত্রে যে চারটি স্থানে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি নির্দেশ করছে, তার প্রত্যেকটিতে কমপক্ষে একটি করে সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।

আরো নির্দিষ্ট করে দেখা যায় যে হাজারীবাগ, গাবতলী ও হাতিরঝিলের যে স্থানে সবচেয়ে বেশি ঘনত্বের মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি নির্দেশ করছে, ঠিক সে স্থানেই অবস্থিত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো। এ সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে যে গ্যাস গাড়ির সিলিন্ডারে প্রবেশ করানো হয়, তা মিথেন গ্যাস।

হাতিরঝিলের আশপাশে খুবই অল্প দূরত্বে পাঁচটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন অবস্থিত। সম্ভবত একাধিক সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হয়েছে, যার কারণে এসব স্থানে ছড়িয়ে পড়া মিথেন গ্যাসের বিস্তৃতি অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া মিথেন গ্যাসের বিস্তৃতি অপেক্ষা বেশি।

অনলাইনে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে গাবতলীর পশুর হাটের পাশে যে সিএনজি রূপান্তর কারখানা অবস্থিত, তার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সিএনজি সিলিন্ডার, যা থেকে মিথেন গ্যাস খুব সহজেই বাতাসে ছড়িয়ে যেতে পারে।

বায়ুদূষণ নিয়ে একাডেমিক পড়ালেখা বায়ুদূষণের কম্পিউটার মডেল ব্যবহারের অভিজ্ঞতার আলোকে আমি নিশ্চিত যে ঢাকা শহরের চারটি স্থানে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উৎস সংশ্লিষ্ট স্থানে অবস্থিত সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো।

বায়ুদূষণের কম্পিউটার মডেল যেমন স্টকাস্টিক টাইম-ইনভার্টেড ল্যাগরেনজিয়ান ট্রান্সপোর্ট মডেল বা স্টিল্ট মডেল ব্যবহার করে উল্লিখিত প্রত্যেক স্থানে ছড়িয়ে পড়া মিথেন গ্যাসের সম্ভাব্য উৎসস্থল চিহ্নিত করা সম্ভব। এমন অনেক গাণিতিক কম্পিউটার মডেল রয়েছে, যা দিয়ে শহরের মধ্যে কোনো স্থানে আগুন লাগলে ধোঁয়া কোন দিকে প্রবাহিত হবে তার পথনির্দেশনাও পাওয়া যায়।

আমেরিকার ফায়ার সার্ভিস বিভাগ একই রকম গাণিতিক কম্পিউটার মডেলের পূর্বাভাস ব্যবহার করে দাবানল কোন দিকে প্রবাহিত হতে পারে কিংবা দাবানল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া কোন দিকে প্রবাহিত হতে পারে, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এ তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয় কিংবা সতর্কতা জারি করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য।

পরিশেষে আমি বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করতে চাই, ঢাকা শহরের চারটি স্থানে উচ্চমাত্রার মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর (মিথেন গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড অপেক্ষা ২৭ গুণ বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস) জান ও মালের জন্য হুমকি বিবেচনা করে তদন্ত করুন।

অধিকন্তু, সংসদ ভবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া মিথেন গ্যাসের সম্ভব্য উৎস যে সিএনজি ফিলিং স্টেশনটি, তার খুবই কাছাকাছি অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। তাই ভবিষ্যতে একই রকম মিথেন গ্যাসের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট বিষয়টিও তদন্ত করা প্রয়োজন।

মোস্তফা কামাল পলাশ: পিএচডি গবেষক

স্কুল অব এনভায়রনমেন্ট ও সাসটেইনেবিলিটি

সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়, কানাডা

Invest in Social

One thought on “ঢাকার আকাশে মিথেন গ্যাসের আধিক্যের কারণ কী?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *