সালতামামি ২০২০: গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ

মো. মাহবুব হাসান: ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে ৮০৯১ টি, যা ২০১৯ সাল থেকে ২৪টি বেশি। ২০১৬ থেকে বাংলাদেশের গবেষণা বৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ২০ শতাংশ যা ২০২০ এ এসে হোঁচট খেয়ে দাঁড়িয়েছে ০.৩ শতাংশে।

২০১৫ সালে অবশ্য এই হার অবশ্য ৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল যা কিনা এই শতাব্দীতে সর্বনিম্ন। তবে ভালো দিক হচ্ছে ২০২০ এ প্রকাশিত মোট প্রবন্ধের মধ্যে কনফারেন্স পেপার ১১৪৮ টি (১৪ শতাংশ) যা ২০১৯ সালে ছিল ৩০৯৯ টি (৩৯.৪ শতাংশ)।

যে সকল প্রতিষ্ঠান অন্তত ২০০ টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে তার মধ্যে প্রথমে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (৭৫৪ টি প্রবন্ধ) আর ১৩ তম স্থানে আছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (২১৪ টি প্রবন্ধ)।

১৪ তম স্থানে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে রাখা হয়েছে কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৩০৮ থেকে ৫৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১১৪ টিতে।

অবশ্য, ২য় স্থানে থাকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই রকম প্রবণতা দেখা গেছে, ২০১৯ সালে প্রকাশিত ৮০৪ টি থেকে ৫৮ শতাংশ কমে ৫০৮ টি হয়েছে! করোনা অতিমারিতে যেহেতু শিক্ষার্থীরা সশরীরে গবেষণায় অংশ নিতে পারেনি তা হয়তো একটি বড় কারণ হয়ে থাকতে পারে যেহেতু প্রকৌশল এ গবেষণা পরীক্ষণ-নির্ভর।

এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা কমে গেছে গত বেশ কয়েক বছর ধরে ভালো করতে থাকা দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (২৮১ টি) এবং ব্র্যাক (২৫৮ টি)।

গবেষণার সংখ্যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (৪২ শতাংশ), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (৩৫ শতাংশ) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (৩১ শতাংশ)।

 

গবেষণার তুলনা: ২০১৯ ও ২০২০

স্কোপাস ডেটাবেইস ( www.scopus.com ) এর ডেটা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ৬৫ টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করে প্রথম স্থানে আছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ এর তাহমীদ আহমেদ।

তারপর, ৫৫ টি প্রবন্ধ প্রকাশ করে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাওসার আহমেদ এবং ঢাকাস্থ ফার্মাকন রিসার্চ নেটওয়ার্ক এর মো. সাহাব উদ্দিন।

বরাবরের মতোই এবারো অধিকাংশ প্রবন্ধই ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে সর্বাধিক ২১৬০ টি প্রকাশিত হয়েছে মেডিসিন সম্পর্কিত, তারপর আছে প্রকৌশল ১৮২১ টি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ১৫৭৩ টি, কৃষি এবং জীববিজ্ঞান ১১৮০ টি, পরিবেশ বিজ্ঞান ৯৮২ টি প্রাণরসায়ন, জেনেটিক্স এবং অনুপ্রাণ বিজ্ঞান ৯৫৯ টি এবং সমাজ বিজ্ঞানে ৮০৬ টি।

সবচেয়ে বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপেন এক্সেস প্রকাশনা প্লস এর প্লস ওয়ান (১০৭ টি), নেচার গ্রুপ এর সাইন্টিফিক রিপোর্ট (৭৩ টি) এবং সেল প্রেস এর হেলিয়ন (৬৯ টি) জার্নালে।

যে সকল প্রতিষ্ঠান এ বছরের গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে তার মধ্যে জাপান সোসাইটি ফর প্রোমোশন অব সাইন্স (১৫৭ টি), চায়নার ন্যাশনাল ন্যাচারাল সাইন্স ফাউন্ডেশন (১৪৩ টি), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ (১৩৭ টি), বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন (১২৬ টি) এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১০১ টি।

মো. মাহবুব হাসান
শিক্ষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট গবেষক, কিংস কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্য।

Invest in Social

One thought on “সালতামামি ২০২০: গবেষণা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *