নীল তিমি হত্যার নেপথ্যে-প্রয়োজন নাকি অন্যকিছু!

ঘটনার সূত্রপাত হয় একাদশ শতাব্দিতে।
বিস্কো উপসাগরের ফ্রেঞ্চ এবং স্পেনীয় উপকূলের স্থানীয় বাসিন্দাদের হাত ধরে শুরু হয়েছিলো একটি নতুন বানিজ্যের।তেল এবং মাংসের জন্য বানিজ্যিকভাবে তিমি শিকার সেসময় থেকেই শুরু হয়েছিলো।

ধীরে ধীরে বিস্কো উপসাগরে তিমির প্রতুলতা কমে যাওয়ার সাথে সাথে এই বানিজ্যের প্রসার বিস্কো উপসাগরের উত্তর দিকে ছড়াতে থাকে।ধীরে ধীরে উত্তর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তিমি শিকারের প্রবনতা বাড়তে থাকে।আস্তে আস্তে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ স্বতন্ত্র ভাবে তিমি শিকারকরা শুরু করে।

যদিও এরো অনেক আগে ৬০০০খ্রিস্টপূর্বাব্দে কোরিয়ায় সর্বপ্রথম তিমি শিকারের প্রচলন শুরু হয়েছিলো কিন্ত ততকালীন সময়কার বাস্তুতন্ত্রে তিমি শিকার এতটাও প্রভাব ফেলে নি,যতটা বর্তমান সময়ের তিমি শিকার সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে ফেলছে।

বিস্কো উপসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলে ঘটা এই শিকার মূলত ছিলো বাস্ক দের একচেটিয়া ব্যাবসা।পরবর্তী ৫০০বছর জুড়ে বাস্করা এই ব্যাবসায় রাজত্ব করেছিলো এবং এই শিকারকে উত্তর আটলান্টিক থেকে ক্রমশ পশ্চিম আটলান্টিকএর দিকে নিয়ে যায় এরা।

উনিশ এবং বিশ শতকে এসে তিমিরা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয়েছিলো।এইসময়ে এসে তিমির তেল আর মাংসের চাহিদা অনেকখানি বেড়ে যায়।তখনকার সময় তিমির চর্বি থেকে প্রাপ্ত তেলকে ট্রেইন অয়েল নামে অবহিত করা হতো যেটা তখনকার সময়ে প্রদীপ প্রজ্জলন,শিল্প কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রাদিতে গ্রিজ হিসেবে ব্যাবহার করা হতো।

এছাড়া আরো নানা কাজেও তিমির দেহের বিভিন্ন অংশের ব্যাবহার ছিলো উল্লেখযোগ্য, যেমন তিমির স্পার্ম পারফিউম শিল্পে ব্যাবহৃত হতো,এছাড়াও ডিটারজেন্ট, মার্জারিন,অটোমোবাইল ওয়েল,এডিটিভিস সহ নানা শিল্পে ব্যাবহৃত হতো।

উনিশ শতকে আস্তে আস্তে জাহাজ শিল্প উন্নত হতে থাকলো।সেই সাথে তিমি শিকার করা জাহাজের সংখ্যা আর আকৃতি সবকিছুই দিনে দিনে বাড়তে লাগলো।২০শতকে এসে সংখ্যাটি হয়তো সর্বোচ্চে পৌছেছিলো।

নীল তিমি নিধন
নীল তিমি নিধন

১৯৩০ সালের পর হতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০০০০তিমি শিকার করা হতো।বিজ্ঞানীরা ধারনা করছে যে ১৯০০সাল থেকে ১৯৯৯ সাল নাগাত সমুদ্রে তিমি শিকারের সংখ্যা ছিলো প্রায় ২.৯ মিলিয়ন।সংখ্যাটা নেহাতই কম নয়।এই শতকেই কয়েকপ্রজাতি তিমির বিলুপ্তি ঘটে যার মধ্যে উত্তর আটলান্টিক সাগরে থাকা ধূসর তিমির নাম সামিল রয়েছে।

তিমিদের এই বিপন্ন অবস্থা উপলব্ধি করেই ১৯৪৬সালের ২ই ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় আইডব্লিউসি বা আন্তর্জাতিক তিমি কমিশন যার প্রধান উদ্দেশ্যই ছিলো বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকার বন্ধ করা কিংবা এর পরিমান নিয়ন্ত্রণ করা।

আবার একটু পেছন থেকে ঘুরে আসি।মানুষ আসলে কোন কারনে তিমি শিকার করা শুরু করেছিলো?

অনেক আগে মানুষ তাদের বেচে থাকার বিভিন্ন রসদ জোগানের উদ্দেশ্যে তিমি শিকার করতো।সেসব রসদের মধ্যে ছিলো চর্বি এবং তেল।বিশেষ করে ঠান্ডা অঞ্চলের মানুষেরা যেমন এস্কিমো কিংবা গ্রীনল্যান্ডের বাসিন্দারা অত্যাধিক ঠান্ডার কারনে সবজি উৎপাদন করতে পারতো না।

আর এসব গোত্রের মানুষদের বেচে থাকার প্রয়োজনীয় খাবার এবং উত্তাপের জোগান এই তিমির কাছ থেকেই পেত।তিমির মাংস প্রোটিন,ভিটামিন এ,সি,ডি এবং আয়রন এ পরিপূর্ন থাকায় এটি ছিলো সেসময় উতকৃষ্ট সস্তা খাবার।তাছাড়া ততকালীন সময়ে খনিজ জ্বালানী তেলের প্রতুলতা এতটাও না থাকায় তিমির চর্বিকে নানা কাজে ব্যাবহার করা হতো।

জাপানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর খাবারের সংকটে ত্রাতা হিসেবে আর্বিভূত হয়েছিলো তিমির মাংস,যা ছিলো সস্তায় প্রোটিনের উৎস।গড় পড়তা একটি স্পার্ম হোয়েল থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ব্যারেল তেল পাওয়া যেত।

যদিও আঠারো শতকের পর পেট্রেলিয়ামের ব্যাবহার বাড়ার পর ধীরে ধীরে তিমির তেলের ব্যাবহার হ্রাস পেতে থাকে একদিকে,আরেকদিকে ধীরে ধীরে তিমির মাংস ভক্ষনের প্রবনতা আর দাতের চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাই দিন শেষে তিমির তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার কোন প্রভাবই তিমি শিকারের ওপর পড়ে নি।

বর্তমান জাপান,গ্রেট ব্রিটেন,নরওয়ে সহ ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশের অর্থনীতির বেসমেন্ট অনেকখানি এই বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকারের ওপর একসময় নির্ভর ছিলো।

তিমি শিকারি দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জাপান,নরওয়ে এবং আইসল্যান্ড।এছাড়াও আরো কয়েকটি দেশে তিমি নিধন হয়েছিলো কিংবা এখনো হচ্ছে তবে তা উপরোক্ত উল্লেখ্য প্রথম তিনিটি দেশের তুলনায় কম।

১৯৬০এর দশকে তিমি শিকারের হার বছরে ৭২০০০ হাজারে দাড়িয়েছিলো।১৯৮৬সালে যখন আইডব্লিউসি যখন বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকার বন্ধ করে দেয় তখন অনেক বড় বড় তিমিওয়ালা দেশ তিমি শিকার করা বন্ধ করে দিয়েছিলো।ততকালীন সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো বড় শক্তিধর দেশও ১৯৮৬-৮৭ সাল হতে তিমি শিকার করা বন্ধ করে দেন।

তবে এখানেই বড় প্যাচ লাগায় জাপান,নরওয়ে আর আইসল্যান্ডের মতো উন্নত দেশ গুলো।তারা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক তিমি শিকারের অনুমতির জন্য আইডব্লুসি এর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি মানে নি।যার ফলে নিষেধাজ্ঞাটি খানিকটা অস্থায়ী রূপ লাভ করে।

জাপান কখনই তিমি শিকার বন্ধ করে নি।নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়েও তারা সবসময় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার নাম দিয়ে সবসময় তিমি শিকার চালিয়ে গেছে।১৯৮৬ সালের পর হতে গড়ে জাপান প্রতি বছর ৯০০থেকে ১২০০টি তিমি শিকার করেছে প্রতি বছর।

নীল তিমি নিধন
নীল তিমি নিধন

জাপান আর নরওয়ের মতো দেশগুলো নিজেদের মতো করে কোটা ভেবে নিয়েছিলো,সে কোটা অনুযায়ী তারা প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমান তিমি শিকার করতো।নরওয়ে যেখানে প্রতিবছর ৬০০টির মতো তিমি শিকার করতো সেখানে জাপান প্রতিবছর দুবার করে ২০০টি মিনকি তিমি,৫০টি ব্রাইডের তিমি,১০০টি সেয় তিমি আর ১০টি করে স্পার্ম তিমি শিকার করতো।এই শিকার অব্যাহত ছিলো ততদিন পর্যন্ত যতদিন পর্যন্ত না ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস এই তিমি শিকারকে অবৈধ ঘোষনা করে।

জাপান ২০১৮সালে পুনরায় আইডব্লিউসি তে নির্দিষ্ট কোটার জন্য আবেদন করে।কিন্ত সেটা আইডব্লিউসি তে নাকোচ হয়ে যায়।যার প্রতিবাদ স্বরূপ জাপান ২০১৯সালের জুলাই মাসে জাপান আনুষ্ঠানিক ভাবে আইডব্লিউসি ত্যাগ করে এবং পুনরায় বানিজ্যিকভাবে তিমি শিকার শুরু করে।

ততকালীন জাপানের মৎস বিষয়ক মন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন যে এই শিকার জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে।অর্থাৎ পূর্বে জাপান বৈজ্ঞানিক গবেষনার জন্য এন্টার্কটিকায় যে তিমি শিকার করতো সেটা করবে না।

যদিও জাপানে বর্তমানে এটি একটি মন্দা ব্যাবসা আর খুব ছোট একটি ব্যাবসা,যেখানে মাত্র ৩০০জন লোক যুক্ত এই শিল্পের সাথে।২০১৯সালের জুলাই মাসে বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকারের জন্য পাচটি জাহাজ সমুদ্রে গিয়েছিলো।

জাপানে তিমি শিকারের পেছনে কয়েকটি কারন রয়েছে।প্রথম কারন হলো একটা সময় ছিলো যখন জাপানে প্রোটিনের একমাত্র সহজলভ্য উৎস ছিলো এই তিমির মাংস।যার ফলে এই মাংসের প্রতি তাদের মনে ইমোশনাল এটাচমেন্ট অতটাও নেই যতটা পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের মনে বিদ্যমান।

ব্যাপারটা অনেকটা এরকম দাড়ায়,কোন এক গবাদিপশু প্রেমি চিকেন কারী দিয়ে খেয়ে এসে গবাদি পশু নিধনের বিরুদ্ধে ধর্মঘট করছে।কিন্ত প্রকৃত পক্ষে দুটোই,প্রানী হত্যা।এটা জাপানিদের চিন্তা ভাবনা।তাদের কাছে ব্যাপারটা অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাঙারু নিধন কিংবা ইউএসএর কসাইখানায় কোন এক গরুর মৃত্যুর মতোই।তাছাড়া জাপানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তিমি শিকার কে উৎসাহিত করে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ মন্ত্রী একবার বলেছিলেন,”জাপানের বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে করা তিমি শিকার খাবারের প্লেট পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

এ থেকেই বোঝা যায় তিমি সংরক্ষনের ক্ষেত্রে জাপানের ভূমিকা কি!

তিমি শিকারের বিরোধিতাকারী আরেকটি দেশ ছিল নরওয়ে।১৯৮৬সালে আইডব্লিউসি এর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর কয়েকবছর বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে তিমি শিকার করেছিলো তারা।

কিন্ত ১৯৯৩ সালের পর তারা পুনরায় বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকার শুরু করে।নরওয়ের ফিসারিজ মন্ত্রি পের স্যান্ডবার্গ এর মতে তিমিকে বিপদগ্রস্ত হিসেবে আইইউসিএন এর রেড লিস্টে স্থান দেয়া নেহাতই বোকামি ব্যাতিত আর কিছুই না।

কেননা উনার মতে নরওয়েজিয়ান সরকার গবেষনার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যায় করে আর সেই তথ্যানুযায়ী তিমি শিকার কখনই সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে না,বরং নরওয়ের জলসীমায় এরা প্রচুর পরিমানে মাছ খেয়ে ফেলায়,তিমি শিকার প্রকৃত পক্ষে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য আনয়ন করে।কিন্তু ডব্লিউডিসি এর মতে নরওয়েজিয়ান সরকারের এমন তথ্য সম্পূর্ন অযৌক্তিক আর অসত্য।

তবে সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো,২০০০সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নরওয়েতে শিকার হওয়া তিমির ৬৪% ছিলো মেয়ে তিমি যার ৪০% এর ওপর ছিলো গর্ভবতী।

নরওয়েতে শিকার হওয়া অধিকাংশ তিমিই মূলত মিনকি প্রজাতির তিমি।নরওয়েজিয়ান মানুষদের মধ্যে মাত্র ৫% মানুষই নিয়মিত তিমির মাংস খায়।যদিও সরকার প্রতিনিয়ত ভর্তুকি আর প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে তিমির মাংস ভক্ষনের জন্য আগ্রহ বাড়িয়ে তোলার জন্য।

গত গ্রীষ্মে,নরওয়ের ফিশারিজ মন্ত্রি পের স্যান্ডবার্গ ১.২মিলিয়ন ক্রোনার তিমি মাংসকে মূখরোচক খাদ্য হিসেবে শিশুদের কাছে এবং বিভিন্ন স্কুলে প্রচারনার জন্য খরচ করার ঘোষনা দেন।তিনি হরহামেশাই বিভিন্ন বক্তৃতায় বলেন যে,”তিমির মাংসে ফ্যাট কম আর তা স্বাস্থের পক্ষে ভালো।”নরওয়েতে দিন দিন পড়তির দিকে থাকা এই শিল্পে,অধিকাংশ তিমির মাংসই রপ্তানি করে দেয়া হয়।

আইসল্যান্ডেও তিমি শিকার বন্ধের আরেক বিরোধিতা কারী।এই দেশটি আইডব্লিউসি তে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলো।নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এরা ১৯৯২ সালে আইডব্লিউসি ত্যাগ করে।২০০২ সালে এরা পুনরায় সেখানে যোগ দিয়ে আবার ২০০৬সালে আইডব্লিউসি ত্যাগ করে।

২০০৬সাল হতে এরা পুরোদমে বানিজ্যিক ভাবে তিমি শিকার শুরু করে।২০১০ সালে আইসল্যান্ডের জাহাজ হতে উত্তর আটলান্টিক সাগরে ১৪৮টি ফিন হোয়েল আর ৬০টি মিনকি তিমি শিকার করা হয়।২০০৬সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০৬টি ফিন তিমিকে শিকার করা হয়েছে আইসল্যান্ডে।

গত বছরে আইসল্যান্ডের ফিসারিজ মন্ত্রী আইসল্যান্ডে ফিন তিমি ধরার জন্য ফিন তিমি ধরার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান হাভালুর এইচ এফ কে দায়িত্ব দেয়।কিন্ত সৌভাগ্যনবশত গত বছর জুনে ঘোষনা করা হয় যে হাভালুর এইচ এফ আর পরিচালিত হবে না।সবচেয়ে বড় কথা হলো,তিমি শিকার এখন আইসল্যান্ডেও অতটা জনপ্রিয় নয়,কারন এটি কোন জনপ্রিয় কিংবা ঐতিহ্যবাহী খাবার নয় সেখানে।

আইসল্যান্ডের মানুষের মাত্র ১৫শতাংশই তিমির মাংস নিয়মিত ভক্ষন করে। হাভালুর এইচ এফ সবসময় নানা প্ররোচনার মাধ্যমে চেয়েছিলো তিমির মাংসের ব্যাবহার বাড়ানোকে প্রমোট করতে।

যেমন,তারা তিমি বিয়ার তৈরি করেছিলেন,যেটাকে অধিকাংশ মদপ্রেমিরাই পছন্দ করেননি,তাছাড়া এমন রটনাও তারা ছড়িয়েছে যে রক্তাল্পতা কমাতে শুকনো তিমির মাংসের নির্জাস অনেক সহায়তা করে।

নরওয়ে এবং আইসল্যান্ডে তিমির মাংসের চাহিদা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে সেখানে ঘুরতে আশা পর্যটন কারীরা।যাদের অধিকাংশদেরকেই প্ররোচনার মাধ্যমে তিমির মাংস খাবার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়।

ডেনমার্কের অংশ গ্রীনল্যান্ডে প্রতি বছর গড়ে ১৭৫টি মিনকি তিমি,৩৬০টি নার তিমি এবং ১৯০টি পাইলট তিমিকে শিকার করা হয়।

জার্মানি তিমি শিকারে সবচেয়ে সফল দেশ ছিলো একসময়।কিন্ত নেপোলিয়নের যুদ্ধের পর তা আর সম্ভব হয় নি।এর পর ১৯৩০সালের দিকে নরওয়ের সহযোগীতায় এরা আবার সফল ভাবে তিমি শিকার শুরু করে।১৯৩৯সাল নাগাত জার্মানি প্রায় ১৫০০০ এর মতো তিমি শিকার করে।

১৭৯১ থেকে ১৯৭৮সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার জন্য তিমি শিকার একটি বড় বানিজ্য ছিলো।বিশ শতকে এসেও অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০টি হোয়েলিং স্টেশন ছিলো।

কাডানা এখনো বছরে গড়ে ১০০টি তিমি শিকার করে।

আনিমেল ওয়েলফেয়ার ইন্সটিটিউট এর মতে তিমি শিকারের পদ্ধতিগুলো অনেক নিষ্ঠুর।বর্তমানে বানিজ্যিকভাবে শিকারে ব্যাবহৃত সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিটিও শিকার করা প্রানীটির ব্যাথাহীন মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারে না।

এটা হিউমান স্লাটার ল যা পশুসম্পদকে মানুষের নিষ্ঠুরতার হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করে তার থেকে ভিন্ন।অনেক আধুনিক তিমি শিকারি এখনো তিমি শিকারের জন্য হারপুন ব্যাবহার করছে যা সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে তিমি শিকারের জন্য ব্যাবহার করা হচ্ছে।

আধুনিক হারপুনগুলোতে পেনফ্রাইট গ্রেনেড লাগানো থাকে যেগুলো দেহের একফুট গভীরে প্রবেশ করতে পারে আর। যদি এই হারপুন তিমির মস্তিষ্ককে আঘাত করে তবে তিমির মৃত্যু খানিকটা নিশ্চিত ধরে নেয়া যায়,কিংবা অন্য কোন অংগে কিংবা প্রত্যঙ্গকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য অবশ করার জন্য এই হারপুন যথেষ্ঠ।

হারপুনের আঘাতে তিমির দেহে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তা ধীরে ধীরে তিমিকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।আসলে ব্যাপারটা হয়তো তিমিখেকো দেশগুলোর কাছে অমানবিক লাগবে না।

ভাবতেই অবাক লাগে,একই শ্রেনির দুইটি প্রানী,কেউ শরীরের আকারে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আর কেউ মস্তিষ্কের আকারে।তবে এই নিধনক্রিয়া,সত্যিই মস্তিষ্কের দিক দিয়ে বড় প্রানীটির বিবেচনাবোধের পাশে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন রেখে দিয়েছে।অপেক্ষায় রইলাম,হয়তো সুদিন আসবে।

লিখাঃ প্রীতম মজুমদার

তথ্যসংগ্রহঃ সাদিয়া আফরিন মীম,প্রীতম মজুমদার
শিক্ষার্থী
চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ

তথ্যসূত্রঃ

Whaling

 

বাংলায় হোক

বিজ্ঞানচর্চা বাংলায় বিজ্ঞানচর্চাঃ Engineer’s Diary Science Club

🙂

Invest in Social
Pritom Majumder

Pritom Majumder

A lil creation of the UNIVERSE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *