ভালোবাসার রসায়ন

ভালোবাসা একটি অনুভব । ভালোবাসা হতে পারে দুটো মানুষে, ভালোবাসা হতে পারে একটি বস্তুকে, ভালোবাসা হতে পারে অদৃশ্য স্রষ্টাকে, ভালোবাসা হতে পারে নিজের একটি কাজকে । এইযে কোনো কিছুর সাথে একটি মানসিক সংযোগ, এটাই ভালোবাসা ।

জগতে ভালোবাসা বলতে দুটো মানুষের ভালোবাসাকেই বেশিরভাগ মানুষ বুঝে থাকে ।

ভালোবাসা মানে দুটো মানুষের সম্পর্ক । একটি অনুভবের সম্পর্ক । কিন্তু শরীর-মন কি করে বুঝে এই ভালোবাসা । অনুভব মানেই শরীরের রসায়ন । আর এই রসায়ন নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক । মস্তিষ্কের এই কাজকেই চিরকাল বলে মন । ভালোবাসা যদি দুটো মনের অনুভবের খেলা হয়, তারমানে ভালোবাসা আসলে দুটো মস্তিকের খেলা ।

মস্তিষ্ক মানে নিউরনের রসায়ন । ভালোবাসা তাহলে রসায়নের আকর্ষণ ।

ভালোবাসায় কাজ করে এমন দশটি রাসায়নিক উপাদান হলো – এড্রেনালিন, নর এড্রেনালিন, ডোপামিন, টেস্টোস্টেরোন, ইস্ট্রোজেন, অক্সিটোসিন, এন্ডোরফিন, ভেসোপ্রেসিন, ফিনাইলেথাইলামিন, সেরেটোনিন । সবগুলোই মস্তিষ্কে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কাজ করে । এদের যেমন অন্য অনেক কাজ আছে, তার সাথে ভালোবাসার অনুভবটি তৈরিতে প্রতিটি উপাদানের একটি প্রভাব আছে । কারণ হলো ভালোবাসা একটি ককটেল ! ভালোবাসা একটি মিশ্র রসায়ন ।

ভালোবাসা হলো দুটো মানুষের আকর্ষণ । এই আকর্ষণের কাজ ঘটে এই রাসায়নিক উপাদানগুলোতে । এগুলোর কিছুকে বলে নিউরোট্রান্সমিটার সাবস্টেন্স । মানে হলো আমাদের অনুভবটিকে যেসব রাসায়নিক পদার্থ ধারন এবং বহন করে । এই উপাদানগুলোর কমবেশির উপর নির্ভর করে আমাদের অনুভবগুলো ।

ভালোবাসা একটি উত্তেজনা । কিসের উত্তেজনা ! এই কেমিক্যালগুলোর উত্তেজনা । ভালোবাসা মানে অজানা উল্লাস, মনের পুলক, অনিশচিত শংকা, কখনো ভয়, কখনো উত্তেজনা, কখনো শিহরণ, কখনো জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা ।

ভালোবাসা একটি সাবকনশাস ফিলিংস । এটি পুরোপুরি কনসাস নয় আবার পুরো আনকনসাস নয় । এটি মাঝামাঝি একটি উত্তাপ ।
ভালোবাসা একটা সংযোগ, ভালোবাসা একটি এটাচমেন্ট । আমরা যখন ছোট থেকে বড়ো হতে থাকি – আমাদের শরীর শুরুতে ভয় এবং অনিশ্চয়তায় বাড়তে থাকে । অজানা কৌতূহল আর প্রশ্ন ।

জীবনের প্রথম ভালোবাসাটি গড়ে ওঠে বাবা মা পরিবার এই চক্রে । তৈরি হয় উত্তর এবং আস্থা । ধীরে ধীরে এই ভালোবাসা আমাদের রসায়নকে স্থিতি দেয় । আমাদের ভয় এবং অনিশচয়তা কমায় । সময়ে শরীর বড়ো হয় । আমাদের রসায়নে অনেক পরিবর্তন হয় । সে রসায়ন আমাদের মধ্যে ভিন্ন রকম ভালোবাসা তৈরি করে । চেনা পরিবারের গণ্ডি ছেড়ে আমরা ভিন্ন একটি মানুষের মাঝে খুঁজি ভালোবাসা । সে ভালোবাসা দিয়ে কেউ আমরা আরেকটি ঘর বাঁধি, কেউ বাঁধি না ।

ভালোবাসার তিনটি স্টেজ ।
প্রথম : যৌনতা
দ্বিতীয় : আকর্ষণ
তৃতীয় : সংযোগ

যৌনতাটি শুরুতে কাজ করে আড়ালে । আকর্ষণটি যৌনতাকে পেছনে রেখে সময়টিতে উত্তেজনা আনে । যৌনতা এবং আকর্ষণের সংযোগে তৈরি হয় বন্ধন । বন্ধনে যা স্থিতি পায়, সেটাই ভালোবাসা ।

© অপূর্ব চৌধুরী । চিকিৎসক এবং লেখক । জন্ম বাংলাদেশ, বসবাস ইংল্যান্ড ।

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *