কিউটেনিয়াস হর্ণ এর ইতিবৃত্ত

সার্জারি’র জগদ্বিখ্যাত পাঠ্যবই বেইলি এন্ড লাভ’স।
যার মলাট উল্টালেই সর্বপ্রথম আপনার নজর কেড়ে নেবে শিংওয়ালা একজন মহিলার প্রতিচ্ছবি।

তার নিচে ছোট করে বিবরণে লেখা নাম মাদাম ডিমেন্স। (লোকে তাকে বিধবা ডিমেন্স বলেও ডাকতো,যদিওবা তিনি কখনোই বিয়ে করেন নি।)
পেশায় ওয়াটার ক্রিস(একধরনের শাক) বিক্রেতা।

উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে তিনি বাস করতেন।

ভদ্রমহিলার বয়স যখন ৭০ এর কাছাকাছি তখন তিনি লক্ষ করলেন তার মাথার বাম দিক থেকে(left parietal region) কিছু একটা উঁচু বস্তু সদৃশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

যা নিয়ে তিনি বেশ অস্বস্তিতে ভুগতেন এবং পরবর্তী ছয় বছরে এটি শিঙাকৃতি ধারণ করে প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার বা সাড়ে নয় ইঞ্চি লম্বা হয়।

মাদাম ডিমেন্স তার এই বর্ধিত বেমানান অংশটি চুলের মাধ্যমে এবং মিউলিন ক্যাপের সাহায্যে ঢেকে রাখার চেষ্টা করতেন।

অবশেষে ৭৬ বছর বয়সে ফরাসি সার্জন ডা.জোসেফ সুবেরবিইলি সফলভাবে তার এই সিবেসিয়াস হর্ণ টি অপসারণ করতে সক্ষম হন।

পরবর্তী সময়ে এই শিং সদৃশ বস্তুটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার মিউটার মিউজিয়ামে(Mutter Museum) প্রদর্শন করা হয়।

তার এ ছবিটি সর্বপ্রথম ১৯৩২ সালে গ্রেট ব্রিটেনে প্রকাশিত Bailey & Love’s Short Practice of Surgery বইয়ের প্রথম মুদ্রণে প্রকাশিত হয়।

[বেইলি এন্ড লাভ বই সহ বেশ কিছু জায়গায় হর্ণ টি কপালে দেখানো হয়েছে তবে যিনি এটি সার্জারি’র মাধ্যমে অপসারণ করেছেন তিনি এই সার্জারির কয়েক বছর পর একটি বিবৃতি প্রদান করেন যেখানে তিনি Left parietal region উল্লেখ করেন, বিভিন্ন জার্নালে এটি নিয়ে সামান্য তথ্য বিভ্রাটও রয়েছে,যেমন কিছু কিছু জায়গায় দাবি করা হয়েছে সার্জারির আগে প্রায় চল্লিশ বছর পর্যন্ত তিনি এটি বহন করেছেন কিন্তু অধিকাংশ জার্ণালেই এ সময়টিকে ছয় বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।]

#২.

সিবেসিয়াস হর্ণ যা ডেভিল’স হর্ণ তথা শয়তানের শিং নামে বহুল পরিচিত।

এছাড়াও এটি কিউটেনিয়াস হর্ণ এবং ল্যাটিন উদ্ভুত কর্নু কিউটেনিয়াম নামেও সমাদৃত।

কেন হয় ?

==> এটি যেহেতু Sun exposed area তেই হয়
তাই ধারণা করা হয় অধিক সময় সূর্যালোকের রেডিয়েশন/রশ্মিতে এক্সপোজারের কারণে হতে পারে।

এছাড়াও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণেও বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্টস তৈরি হয় যা থেকে পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি সময়ে এটি হর্ণ/শিঙ আকৃতি লাভ করতে পারে। তবে পুরোপুরি সঠিক কারণটি এখনও অজানা।

কি দিয়ে তৈরি হয় ?

==> এই হর্ণ মুলত কেরাটিন দিয়ে তৈরি।
কেরাটিন হচ্ছে এক ধরনের তন্তুময় গাঠনিক প্রোটিন। (Fibrous structural protein)।
যা দিয়ে চুল,নখ,শিং,উল এগুলো তৈরি হয়।

কারা বেশি ঝুকিপূর্ণ ?

==> সাধারণত সাদা চামড়ার মানুষজন (fairy skin) এবং ৬০-৭০ বছর বয়সী পুরুষ ও মহিলা।

এটি সার্জারী’র মাধ্যমে পুরপুরি অপসারণ করা যায় তবে শতকরা ২০ ভাগ ক্ষেত্রে এই সিবেসিয়াস হর্ণ থেকে পরবর্তী সময়ে স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সার হতে পারে।

সাদা চামড়ার পুরুষ ও মহিলারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের ডার্ক স্কিনের বয়স্ক মানুষদেরও এটি হতে পারে।

বেশ কয়েক বছর পূর্বে শ্যাম লাল যাদব নামের ৭৪ বছর বয়সী একজন ভারতীয় দরিদ্র কৃষকের মাথার ঠিক উপরের অংশে এমন সিবেসিয়াস হর্ণ দেখা যায়।

শ্যাম লাল যাদব
শ্যাম লাল যাদব

যিনি অনেকদিন ধরেই তার এই হর্ণ/শিঙ’টিকে নাপিতের মাধ্যমে কেটে কেটে ছোটো করে রাখছিলেন কিন্তু পরবর্তী সময়ে বেশকিছু জটিলতা দেখা দিলে তিনি সার্জনের দারস্থ হন এবং অপারেশনের মাধ্যমে তার এ সিবেসিয়াস হর্ণটিকে অপসারণ করেন।

এরকম আরো কিছু ঘটনা 

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *