লুপ্তপ্রায় প্রানীদের গল্পঃপর্ব-১

 

ক্রমাগত আগ্রাসনের কারনে আমরা হারাচ্ছি আমাদের বনাঞ্চল।সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার বিপন্ন প্রান।বনাঞ্চল হারিয়ে গেলে আমরা যে শুধু আবাহাওয়াগত সমস্যায় পড়বো তা নয়,বনাঞ্চল ধংসের পাশাপাশি ধংস হয়ে যাবে সেসব বিপন্ন প্রজাতির কোটি পথচলা।এমনই কিছু প্রজাতির সাথে আজ পরিচিত হবো আমরা।

 

হামিং বার্ড(Cynanthus doubledayi)

বাংলায় একটা কথা আছে,”হেডমের চোটে মাটিতে পা পড়ে না।”বলতে গেলে এই পিচ্চি পাখির হেডম একটু বেশিই।

এই পিচ্চি গুলা একটু বেশিই বিচ্ছু,প্রায় সব দিকেই সমান তালে উড়তে পারে,আর সব চেয়ে বড় কথা হলো এরা হাটতে পারে না।

এই পিচ্ছিগুলার বাসার আকৃতি একটা আখরোঠের আকৃতির হবে।

এদের বিপাকীয় ক্ষমতা এতই বেশি যে এদের মতো বিপাকীয় ক্ষমতা যদি আমাদের থাকতো তবে আমাদের দিনে ১০বেলা খাবার খাওয়া লাগতো।

এই পাখিদের সবচেয়ে ছোট প্রজাতি ‘কিউবান বি’ হামিং বার্ড আকৃতিতে মৌমাছির মতো।কথায়া আছে “ছোট মরিচের ঝাল বেশি”।

হামিং বার্ড

এই ছোট্ট পাখি গুলো আকৃতিতে ছোট হলেও বসন্তকালীন পরিযাত্রার সময় এরা মেক্সিকান উপসাগর পার করে।

এদের হার্ট বিট রেট প্রতি মিনিটে ১২০০বিট।পৃথিবীতে এদের প্রায় ৪০০টি প্রজাতি বিদ্যমান।আর এদের গায়ে গড়ে প্রায় ৯০০টি পালক থাকে।

সব থেকে মজার ব্যাপার হলো আপনার বন্ধু মহলের সবচেয়ে বেশি খাই খাই বন্ধুটির থেকেও এই পাখি আরো বেশি খাই খাই করে।

প্রতি মিনিট তিরিশেক পর পরই এদের খাওয়া লাগবেই লাগবেই।ফুলের মতো ফুলদের প্রতি শয়তান গুলো খেয়ে ছেড়ে দেয়,না মানে ইয়ে,ফুলের মধু এদের খাদ্যতালিকার শিখরে কারন মধুতে থাকা সুক্রোজ সহজপাচ্য।

সৌভাগ্য বশত এই কিউট পিচ্চিগুলাও আইইউসিএন এর রেড লিস্টে সামিল,আসলেই সৌভাগ্যের ব্যাপার।আসলেই ব্যাপারটা সৌভাগ্যের। 

 

সিপেক্স ম্যাকাও(Cyanopsitta spixii)

সিপেক্স ম্যাকাওকে লিটল ব্লু ম্যাকাও। প্রায় ২০০০সালের পর হতে এই পাখিগুলো বন হতে বিলুপ্ত।

“এদের সংখ্যা বর্তমানে বর্তমানে ১৬০টির কাছাকাছি যার সবগুলোই খাচায় বন্দি।”

এদের মধ্যে এরা আকারে মাঝারি।মেয়ে সিপেক্সগুলো পুরুষ সিপেক্সের তুলনায় একটু ছোট। পুরুষ সিপেক্সগুলোর গড় ওজন ৩১৮গ্রাম আর ছেলে সিপেক্সগুলোর গড় ওজন ৩০০গ্রামের কাছাকাছি।

এদের জীবনকাল প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ বছর।এদের পাখার প্রসারতা ২৪ থেকে ৩০ সেমি।এরা ব্রাজিলের স্থানীয় পাখি।ব্রাজিলের ক্রান্তীয় শুকনো বন এদের আবাসস্থল।

 

সিপেক্স ম্যাকাও

এই পাখিগুলো অনেক চঞ্চল আর মিমিক্রি করতে পারদর্শী যেটা এদের বন্যপরিবেশ হতে বিলুপ্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারন।

এরা সাধারনত ছোট ছোট দল বেধে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে।এদের খাবারের তালিকায় পিনহাও-বার্বো গাছের বীজ,বাদাম,লাকুরি পাম ফল সহ বিভিন্ন গাছের বাকল এদের খাদ্য তালিকায় বিদ্যমান।

বন্য অঞ্চলে এদের প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত।সিপেক্সের জিহবায় একটি ছোট হাড় রয়েছে যা বাদামের খোসা ভাঙার জন্য বিবর্তিত।

এরাও আজ বিলুপ্তির পথে। 

বেকট্রিয়ান উট(Camelus bactrianus)

বর্তমানে বিপন্ন এই প্রানীটি মধ্যপ্রাচ্যের এণ্ডেমিক তথা এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় প্রানী।

“এই উটগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এদের পিঠে দুটি কুজ বিদ্যমান যা এদেরকে অন্যান্য উটদের থেকে অনন্য করেছে।”

ঠান্ডা,গরম এবং অতিউচ্চতায় এদের অতিসহনশীলতা এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বর্তমান বিশ্বে এরাই একমাত্র বন্য উটের প্রজাতি।

এরা ভরের দিক দিয়ে ৩০০থেকে ১০০০কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

বেকট্রিয়ান ঊট

“এদের অসাধারন ক্ষমতার একটি হলো এরা মাসের পর মাস পানি খেয়ে থাকতে পারে,আবার পানির প্রতুলতার সময় একসাথে প্রায় ৫৭কেজি পানি একসাথে খেয়ে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখে।”

এদের গাল এবং গলায় লম্বা লম্বা দাড়ি দেখা যায় যেগুলো ২৫সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

এদের পরিবেশের সাথে খাপখাওয়ানোর ক্ষমতা কতটুকু তা বোঝা যায় হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রা থেকে ৪০ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত দোদুল্যতায় থাকা একটি ভৌগলিক পরিবেশে নিজেদের টিকিয়ে রাখার মাধ্যমে।

এদের কে আপাতদৃষ্টিতে নিরামিষাশী মনে হলেও এরা প্রয়োজনের সময় জীবন বাচানোর স্বার্থে শুকনো হাড় কিংবা মাংসও খেতে পারে।এ পর্যন্ত এদের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৬৫কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা রেকর্ড করা হয়েছে।

এদের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ৫০বছর।সাধারনত ৩ থেকে ৫ বছরের হলেই এরা যৌন মিলনের জন্য পরিপক্ক হয়,এদের গর্ভকালীন সময় প্রায় ১৩মাস স্থায়ী হয়।সদ্য জন্মনেয়া একটি বাচ্চা উটের ভর প্রায় ৩৬কেজির মতো হয়ে থাকে।

সবচেয়ে বড় কথা,মরুর জাহাজ খ্যাত প্রানীগুলোও আজ বিপন্ন,অতি বিপন্ন।

 

 

আনসিংগি লিফ গিরগিটি (Brookesia perarmata)

মাদাগাস্কারের স্থানীয় এই প্রানীটি মাদাগাস্কারের সিংহি অঞ্চলের শুকনো এলাকাগুলোতে পাওয়া যায়।

এদের পিঠে দুইসারিতে কাটা সাজানো থাকে।সাধারন গিরগিটির থেকে এরা আকারে অনেক ছোট । এরা সর্বোচ্চ ১১সেমি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

এদের লেজ অন্যান্য গিরগিটিদের মতো গাছে চড়ার উপযোগী নয়,বরং এই লেজ খানিকটা ছোট আকৃতির হওয়ায় লেজকে কাটার মতো দেখায়।

এদের প্রজনন ঋতু মূলত বর্ষাকাল।

আনসিংগি লিফ গিরগিটি

“এরা ক্যামোফ্লাজরত অবস্থায় শিকারের নিকটে যায়,তারপর জিহবা বের করে শিকারকে আকড়ে ধরে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে নেয়।”

এদের খাবারের তালিকায় রয়েছে ছোট মাছি এবং উইপোকা।বন্দি অবস্থায় এই গিরগিটির পুরুষগুলো প্রায় ৬-১০বছর এবং মেয়ে গিরগিটি গুলো বন্দি অবস্থায় প্রায় ৪-৬বছর বাচতে পারে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে এই প্রজাতির মহিলা গিরগিটিরা শুকনো পাতার মধ্যে প্রতিবারে ২-৫টি ডিম দেয় আর পাতাগুলোর প্রাকৃতিক ভাবে পচে যাওয়া তাপ আর আদ্রতা ডিমগুলোকে ফোটার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ সরবরাহ করে।

গত শতকের ৯০এর দশকে এই গিরগিটিগুলো পোষ্য হিসেবে বৈধ ছিলো,সেসময় এদের চাহিদার কারনে বর্তমানে এরা বিলুপ্তির পথে।

এরাও আইসিইউএন এর রেডলিস্টে সামিল।

চিতা বেড়াল(Prionailurus bengalensis)

আপনার বাসার ছোট্ট পোষা বেড়ালটাকে চিতা বাঘের কস্টিউম পরিয়ে দিলে কেমন লাগবে একবার ভাবুন তো?

আইইউসিএন এর রেড লিস্টেট এই কিঊটের ডিব্বাকে দেখা মাত্রই মানুষেরা চিতা বাঘের বাচ্চা ভেবে অনেক আদর করে।

চিতা বেড়াল

মানুষের অতি আদর সব প্রানী আবার নিতে পারে না,আদরের ওভারডোজের কারনে মাঝে মাঝে বেচারারা এই ধরাধাম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

“বর্তমানে আমাদের দেশের লাউয়াছড়া বনে এদের গুটিকয়েকের দেখা পাওয়া গেছে।”

শুধু মাত্র প্রজনন ঋতু ছাড়া প্রায় সব সময়ই তারা সিংগেল জীবন যাপন করে।

বর্তমানে এরাও আইইউসিএন এর রেডলিস্টেড।

Invest in Social
Pritom Majumder

Pritom Majumder

A lil creation of the UNIVERSE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *