জমজদের গ্রাম

 

সুন্দর স্থান আর রোমাঞ্চকর ঘটনা জানতে, পড়তে ও শুনতে সবারই ভালো লাগে। আরো বেশি ভালো লাগে রহস্যময় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের আনাগোনা রয়েছে এমন স্থান কিংবা ঘটনা সম্পর্কে জানা। এখানে তুলে ধরা হয়েছে এমনই কিছু বিষয়। এগুলো কেবল রহস্যময়ই নয়, রীতিমতো বিস্ময়কর হয়ে রয়েছে মানুষের কাছে। মূলত ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এমনই কিছু রহস্যময় ব্যাপার জেনে নিন।

 

জমজদের গ্রাম  ভারতের কেরালার কোদিনহি গ্রামের গোপন রহস্য আছে। এটা অবশ্য সবার থেকে গোপন নয়। কিন্তু বড়ই অদ্ভুত। এই গ্রামের অধিবাসীদের দাবি, তাদের গ্রামে যতজন জমজ রয়েছে তা আর কোথাও নেই। এই সংখ্যা রীতিমতো বিস্ময়কর।

 

কোদিনহি গ্রামে ২ হাজার পরিবার রয়েছে যাদের মধ্যে জমজ সদস্য দেখা যায়। একটি গ্রামে ২৫০ জোড়া জমজ থাকা একেবারে অস্বাভাবিক বিষয় তো বটেই। তবে পরিসংখ্যান চালিয়েছেন এমন কয়েকজনের মতে, সেখানে জমজ আছেন সাড়ে তিনশর বেশি। জমজ জন্মের সংখ্যা কিন্তু প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। এমন ঘটনা শুধু ভারতে কেন, গোটা বিশ্বেই বিরল। এই গ্রামে প্রতি ১ হাজার শিশু জন্মের মধ্যে ৪টি জন্মে জমজ হয়ে।

 

যোধপুরে বুম  ২০১২ সালের ডিসেম্বরের ১৮ তারিখে ভারতের যোধপুর গ্রাম বিকট এক শব্দে কেঁপে ওঠে। গ্রামবাসীদের মনে হচ্ছিল, শব্দে তাদের কান নষ্ট হয়ে যাবে। শব্দ এমনভাবে ছড়ায় যেন ভয়ংকর কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছে কোথাও। কোনো বিমান হয়তো বিধ্বস্ত হয়েছে আশপাশে। সবাই এদিক সেদিন ছোটেন। কিন্তু এ শব্দের কোনো কারণ খুঁজে পাননি। এমনকি আশপাশে এ ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবরও মেলেনি যার কারণে এমন শব্দ ছড়াতে পারে।

 

অচেনা নয় জন পুরুষ  ভারতের এই নয় জন পুরুষ কিংবদন্তি হয়ে রয়েছে। তারা যেন মিথলজির বিষয়, কিন্তু অনেক বাস্তব এবং বিশ্বাসযোগ্য। কিংবদন্তি বলে, ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ সম্রাট অশোক এক মহাশক্তিশালী দল গড়ে তুলেছিলেন ৯ জনকে নিয়ে। এটা গঠন করা হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর পর।

 

বলা হয়, এই নয় জন পুরুষের কাছে সেই সব তথ্য সংরক্ষিত ছিল যা অন্য মানুষের হাতে পড়লে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। অনেকের সন্দেহ, এই নয় জন পুরুষের দুই সদস্য হলেন দশম শতকের প্রভাবশালী পোপ সিলভেস্টার দ্বিতীয় এবং ভারতের স্পেস প্রগ্রাম প্রস্তুতকারী বিজ্ঞানী বিক্রম সারাভাই।

 

তাজ মহলের অন্য তত্ত্ব  সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্যে তৈরি করেছিলেন আধুনিক দুনিয়ার এই আশ্চর্যময় স্থাপনা। কিন্তু এটা কী কেবলই স্ত্রীর সমাধিসৌধ? বেশ কিছু তত্ত্ব বলে, তাজ মহল কখনোই প্রেমের ইতিহাস ছিল না। বেশ কিছু প্রমাণপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে বলা হয়েছে, এটা যে সময় বানানো হয়েছিল বলে সবাই জানেন তারও ৩০০ বছর আগে বানানো হয়েছে।

 

যারা এই ভিন্ন তত্ত্বে ইঙ্গিত দিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন প্রফেসর পিএন ওক। তিনি বলেন, এটা সমাধিসৌধ নয়। তাজ মহল আসলে হিন্দুদের এক প্রাচীন মন্দির যার নাম তেজো মহালয়া। এই মন্দির দেবতা শিবার পূজায় বানানো হয়েছে। যদিও ভারত সরকার তাজ মহল নিয়ে গবেষণার সুযোগ কিছু দিয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত রহস্য উন্মোচিত হয়নি।

লাড়াকের চুম্বক পাহাড়  হিমালয়ের কাছেই লাড়াক গ্রাম অঞ্চলে রয়েছে এই পাহাড়। বলা হয়, এই অদ্ভুত পাহাড়টি একটি চৌম্বকক্ষেত্র। আপনি যদি এই পাহাড়ের কাছাকাছি গাড়িটাকে এমনিতেই রাখেন, এটা উৎরাই বেয়ে একাই উঠতে থাকবে। গতি থাকবে রীতিমতো ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার। এই অদ্ভুত অবস্থাকে সবাই হিমালয়ান ওয়ান্ডার বলেই জানেন। এর পেছনের রহস্য অবশ্য উন্মোচিত হয়েছে।

এটা এক অদ্ভুত স্থান। এখানকার পর্বতমালা, রাস্তা এবং পাহাড়গুলো এমন অবস্থানে রয়েছে, দেখলে মনে হবে রাস্তা ক্রমশ ওপরের দিকে উঠে গেছে। আসলে রাস্তা কিন্তু সামান্য নিম্নগামী হয়েছে।

পুনের ভূতবিল্লি এটা আসলে এক ভৌতিক গাড়ি। পুনের বেশ কিছু শহর দাপিয়ে বেড়ায়। যারা দেখেছেন তারা সেই ভীতিকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। এটা নাকি নরক থেকে নেমে আসা এক প্রাণী। অনেকটা বিড়াল, কুকর এবং নেউলের ব্রিড যেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, এই প্রাণীটি মোটাসোটা এবং এর বড়সড় একটি লেজ রয়েছে। এর রং কারো। চেহারা কুকুরের মতো, কিন্তু নেউলের মতো পেছনটা।

 

কংকা লা পাস ইউএফও বেজ  এটা এই পৃথিবীর সবচেয়ে সংরক্ষিত স্থানের একটি। এটা কেবল হিমালয়ের ভেতরেই নয়, ভারত ও চীনের বিতর্কিত সীমান্তের স্থানে। এই কংকা লা পাস ইউএফও বেজের কিছু অংশ চীনে এবং কিছু অংশ ভারতের মধ্যে। এটা উভয় দেশের কম-বেশি নো ম্যান্স ল্যান্ডের মধ্যে পড়েছে। দুটো দেশই এই স্থানের দিকে গভীর দৃষ্টি রেখেছে। কিন্তু কেউ-ই এটাকে পাহাড়া দেয় না, কিংবা দখল দেওয়ার চেষ্টা করে না।

 

ভুল ভুলাইয়া  শত শত সরু সিঁড়ির প্যাসেজের এক গোলকধাঁধা এই ভুল ভুলাইয়া। এদের কয়েকটা প্যাসেজ হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেছে। আগন্তুকদের হচকিত করে দিতে এটা বানানো হয়েছে। যে কেউ এখানে ঢুককে হারিয়ে গেছেন বলে অনুভব করবেন। এর চারপাশে রয়েছে ৪৮৯টি একই ধরনের গ্যালারি যাতে কোনো দরজা নেই। সেখানে দরজা খুঁজতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় হতে পারে। সত্যিকার অর্থেই এক রহস্যময় স্থান।

 

কোত্তায়াম, ইদ্দুকি  কেরালার এই দুই দক্ষিণা ডিস্ট্রিক্টের মানুষ ২০০১ সালের ২৫ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ পর্যন্ত অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে। এই পুরো সময়টা সেখানে লালচে পানির বৃষ্টি হয়েছে। এমন ঘটনা সেই ১৯৮৬ সালেও ঘটে। সর্বসম্প্রতি ২০১২ সালে ঘটেছিল এমন ঘটনা।

 

তথ্যসূত্রঃকালেরকণ্ঠ 

Invest in Social
Pritom Majumder

Pritom Majumder

A lil creation of the UNIVERSE

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *