‘গ্রাভিটি যেখানে শক্তিশালী, সময় সেখানে ধীরে চলে’!

এই ঘটনাটি বিজ্ঞানে ‘Gravitational time dilation’ নামে পরিচিত।

বর্তমানে এটা শুধুই ধারনা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণিত। অদ্য থেকে ১০০ বছরেরও আগে আইনস্টাইন দাদু তার ‘জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি’ তে যা বলেছিলেন, তা আজ জলের মত পরিষ্কার।

ব্যাপারটা বুঝতে হলে আগে জানতে হবে, ‘ গ্রাভিটি জিনিসটা আসলে কি?’

ভর যুক্ত কোনো বস্তু অন্য বস্তুকে আকর্ষন করে, এই আকর্ষন বলই গ্রাভিটি বা মহাকর্ষ। কাছের বস্তুকে বেশি আর দুরের বস্তুকে কম বলে আকর্ষন করে।

তো, আমাদের পৃথিবীর ভর অনেক বেশি হওয়ায় এটা আমাদের সবাইকে নিজের দিকে টেনে নেয়। আপনি লাফ দিয়ে আসমানে যেতে চাইলে দেখবেন, টান দিয়ে আপনারে নিচে বসায়ে রাখবে।

আপাতত একটা জিনিস বুঝলেন, পৃথিবীর যত নিকটে থাকবেন, গ্রাভিটি তত বেশি।

এবার আমাদের বুঝতে হবে, সময় ধীরে চলা বলতে কি বোঝায়।
‘সময় ধীরে চলা’ বলতে সময়ের সম্প্রসারণ বোঝায়।

এক মিনিট তো একমিনিট ই, কিন্তু আপনি রাবারের মত টান দিয়ে সেটাকে বাড়িয়ে দিলেন।
শক্তিশালী গ্রাভিটি স্পেস-টাইমেকে বাঁকিয়ে দেয়।
স্পেস বলতে এই মহাবিশ্ব বোঝায়।

মহাবিশ্বে সময় সরলরেখা বরাবর মনের আনন্দে চলে, কিন্তু শক্তিশালী গ্রাভিটি (মুলত Gravitational mass) যেখানে থাকে, সেখানকার সময়ের সরল পথ রাবারের মত প্রাসারিত হয়ে বেঁকে যায়। এতে ওই জায়গায় সময় বৃদ্ধি পায় (ছবিতে দেখুন)।

সাধারণ সময়ের একসেকেন্ড থেকে বেঁকে যাওয়া একসেকেন্ড বেশি বড় হয়।

‘ইন্টারস্টেলার’ মুভিতে আপনি দেখেছেন, একটা গ্রহে একঘন্টা যেতে না যেতেই পৃথিবীতে সাত বছর চলে যায়। অর্থ্যাৎ, ওই গ্রহে সময় এতই ধীরে চলে যে, পৃথিবীতে সাত বছর গেলে তবেই ওখানে মোটে একঘন্টা পার হবে।

তারমানে, ওই গ্রহে কেউ যদি জন্ম থেকে ৭০ বছর বেঁচে থাকে, তবে পৃথিবীর হিসাবে সে বেঁচে ছিলো ৪২,৯২,৪০০ বছর।

যেহেতু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট অনেক দুরে, সেহেতু সেখানে গ্রাভিটি কম। অতএব, আমাদের এক সেকেন্ড আর স্যাটেলাইটের এক সেকেন্ডের মধ্য কমবেশি হবে।

অনেকবারই পরীক্ষা করা হয়েছে, তারমধ্যে নামকরা ছিল গ্রাভিটি প্রোব-A এক্সপেরিমেন্ট, ১৯৭৬ সালে ভূমি থেকে দশহাজার কিলোমিটার উপরে ঘড়ি রেখে পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং সময়ের পার্থক্য হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ২০১৪ সালে ESA ( ইউরোপীয়ান স্পেস এজেন্সি) গ্যালিলও-৫ এবং গ্যালিলিও-৬ নামের দুটি স্যাটেলাইট দিয়ে পরীক্ষা চালায়, যা পূর্বের সকল গবেষনা থেকে উন্নত ছিল।

আপনি আশা করতেই পারেন যে , যেখানে গ্রাভিটি বেশি, সেখানে বসবাস করে বেশি দিন বেঁচে থাকবেন।

আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে গ্রাভিটি ওয়ালা গ্রহ হলো বৃহস্পতি। আপনি যদি সেখানে বসবাস করেন, তো বেশিক্ষন বাঁচতে পারবেন। Neil deGrasse Tyson এর মতে সেটা হবে মাত্র কয়েক মিনিট।

অন্যগ্রহে না গিয়ে, পৃথিবীর কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেখানে গ্রাভিটি সর্বোচ্চ।

কি? চোখ কপালে উঠছে?
আসলেও তাই, পৃথিবীর কেন্দ্রে ওজন শুন্য মনে হয়, এর মানে এই নয় যে, সেখানে গ্রাভিটি শুন্য।

বরং, বিশ্বজগৎে এমন একটা যায়গাও নেই,যেখানে গ্রাভিটি শুন্য। গ্রাভিটি সবজায়গাতেই বিদ্যমান। এ বিষয়ে আল্লাহ চাইলে অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদের সকলের ইলম ( জ্ঞান) বৃদ্ধি করে দিন।

রেফারেন্স : [১] http://thescienceexplorer.com/universe/how-gravity-changes-time-effect-known-gravitational-time-dilation
[২] https://www.space.com/amp/42641-einstein-gravitational-time-dilation-galileo-probes.html
[৩] https://phys.libretexts.org/Bookshelves/Relativity/Supplemental_Modules_(Relativity)/Miscellaneous_Relativity_Topics/Gravitational_Time_Dilation%2C_a_Derivation

লেখক : Tanvir Mahatab Nadim

 

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *