যেভাবে শুরু হলো আইফোনের যাত্রা

আইফোন

আইফোনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছেন অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ।তাঁর হাত ধরেই এসেছে মোবাইল ফোনের যুগ পরিবর্তনকারী ‘আইফোন’। যা এখন আভিজাত্যের প্রতিক।

 

স্টিভ জবস্। যার জন্মের পরে গর্ভধারীনি মা হারা হতে হয়েছিলো। বর্তমান প্রযুক্তি দুনিয়া পাল্টে দেয়া এক উজ্জল নক্ষত্র।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্লেট ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন তৈরির আগে গান শোনার যন্ত্র হিসেবে আইপড বাজারে এনেছিল অ্যাপল।

অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্টিভ জবস মিউজিক প্লেয়ারের যুগের সমাপ্তি দেখতে চেয়েছিলেন। তাই বাজারে মিউজিক প্লেয়ারের বিকল্প হিসেবে আইপডের স্থান দখল করে নিতে পারে এমন পণ্য তৈরির ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি।

বিশ্বসেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হেডকোয়ার্টার:-অ্যাপল

অ্যাপলের কর্মকর্তারা ২০০৪ সালে ধারণা করেছিলেন, অ্যাপল যদি মিউজিক প্লেয়ারের বিকল্প তৈরি না করে, তবে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান মুঠোফোনের মতো ফোন কল, ভিডিও দেখার প্রযুক্তি ও গান শোনার যন্ত্র একত্র করে নতুন পণ্য বাজারে আনতে পারে।

তাদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আইপডের বাজার দখল করতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন পণ্য বাজারে ছাড়তে পারে। এরপর থেকেই আইফোন তৈরির জন্য প্রস্তুতি শুরু করে অ্যাপল।

২০০৫ সালেই স্টিভ জবস অ্যাপলের প্রকৌশলীদের টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তির পণ্য নকশা করার নির্দেশ দেন।

স্টিভ জবস ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি সানফ্রান্সিসকোতে প্রথম আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি আইপডের একটি ছবি দেখান, যাতে ক্লিক হুইলের পরিবর্তে রোটারি ডায়াল বাটন ছিল।

তবে অ্যাপলের মুঠোফোনে রোটারি বাটন যুক্ত করেনি। কারণ, ওই সময় স্যামসাংয়ের এক্স৮১০ মডেলের মুঠোফোনটির মডেলে রোটেটিং হুইল ছিল।

তবে অ্যাপলের প্রথম আইপড নকশাকারী হিসেবে পরিচিত প্রকৌশলী টনি ফ্যাডেল স্টিভ জবসের রোটেটিং হুইলযুক্ত নতুন পণ্যটির ধারণাকে বাতিল করে দেন এবং ক্লিক হুইলের পরিবর্তে মাল্টি টাচ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার কথা জানান।

টনি ফ্যাডেলের পরামর্শ গ্রহণ করে অ্যাপলের প্রকৌশলী দলকে দুই ভাগে ভাগ করে দেন স্টিভ জবস।

একটি দল সফটওয়্যার ও আরেকটি দল হার্ডওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করে। সফটওয়্যার দলটির মূল কাজ ছিল সুন্দর ইন্টারফেস তৈরি করা আর হার্ডওয়্যার দলটির কাজ ছিল মানুষের পছন্দসই একটি মুঠোফোনের নকশা তৈরি করা।

অ্যাপলের মুঠোফোনের নকশাকারী দলটি স্টিভ জবসের সামনে পাতলা, মোটা, গোলাকার ডিসপ্লেসহ একাধিক নকশা উপস্থাপন করে। কিন্তু তিনি আরও সহজতর নকশার কথা বলেন।

২০০৬ সালে অ্যাপলের নকশাকারী দলটির প্রধান জোনাথন আইভ আইফোনের জন্য একাধিক নকশা চূড়ান্ত করেন।

স্টিভ জবস পছন্দ করেছিলেন জোনাথন আইভের নকশা করা ২০০৪ সালে বাজারে আসা আইপড মিনি সাদৃশ্যের ধাতব পদার্থের তৈরি প্রোটোটাইপটি।

আর এ প্রোটোটাইপটির নকশাতে আরও পরিবর্তন করেন জোনাথন আইভ। এরপরই তৈরি শুরু হয় আইফোনের।

২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান এটিঅ্যান্ডটির সঙ্গে চুক্তিতে আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয় অ্যাপল।

২৯ জুন ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রথম আইফোন বিক্রি শুরু হয়। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির বাজারে আইফোন বিক্রি শুরু হয়।

দ্বিতীয় প্রজন্মের আইফোন ৩জি ১১ জুলাই ২০০৮ সালে বাজারে আনার ঘোষণা দেয় অ্যাপল। তৃতীয় প্রজন্মের আইফোন ৩জিএস বাজারে আসার ঘোষণা এসেছিল ৮ জুন ২০০৯ তারিখে।

২০১১ সালের ৪ অক্টোবর বাজারে আসে পঞ্চম প্রজন্মের আইফোন ৪এস।

২০১১ সালের ৫ অক্টোবর স্টিভ জবস মারা যাওয়ার পর নতুন প্রজন্মের আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দেয় অ্যাপল।

আইফোনের প্রতিটি নকশায় স্টিভ জবসের হাত ছিল বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা ধারণা করেন। কিন্তু স্টিভ জবসকে ছাড়াই ষষ্ঠ প্রজন্মের আইফোন ৫ বাজারে ছাড়ে অ্যাপল।

তার মাঝে ঘটে যাওয়া  এলোমেলো কিছু ঘটনা

ম্যালমো রহস্যঃ

অ্যাপল ব্যবসা ভাল বোঝে। তবে এর আগে তারা নিজেরা কখনও ফোন তৈরি করেনি।

আর তাই ফেডাল তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। যেখানে টেলিকম বিশেষজ্ঞদের সাথে দেখা করবে এবং দেখবে তাদের রিসার্চ ল্যাব।

শুরু হয়েছিল সুইডেনের একটি মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানী ম্যালমো দিয়ে। যা শেষ হয়েছিল খুব খারাপভাবে।

একটি রেস্টুরেন্টে হোস্ট সহ তারা রাতের খাবার খেতে যায়। কিন্তু বেড়িয়ে দেখে গাড়ী থেকে সব ব্যাগ, নোট ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। এটা হয়তো ছিল কোন কর্পোরেট গুপ্তচর।

সেদিন অনেক গোপন তথ্য তারা হারিয়েছিল ঠিকই কিন্তু ঘরে ফিরেছিল মাথাভর্তি আইডিয়া নিয়ে।

কীবোর্ড যুদ্ধ

আইফোনে কি কীবোর্ড থাকা উচিত?
এ নিয়ে প্রায় চারমাস ধরে চলছিল প্রচন্ড তর্কযুদ্ধ। স্টিভ জবস যার হৃদয়ে টাচস্ক্রিন সেট করা।

মানুষ তার আইডিয়া নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে।
কিন্তু জবস এর দৃঢ়তায় খুব দ্রুতই এসব বন্ধ হয়ে গেল।

গোপন লেখনীঃ

জবস এ ব্যপারে নিশ্চিত ছিল যে আইফোন লেখনী নিয়ে কাজ করতে হবে না। কেননা প্রয়োজনে আঙ্গুলই সব।

কিন্তু তার এ সিদ্ধান্তে কেউ তেমন নিশ্চিত হতে পারছিল না। তাই তাকে ছাড়াই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবুও স্টিভের শেষ পর্যন্ত লেখনীর ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না। যদিও তার উত্তরাধিকারী ২০১৫ তে  অ্যাপল পেন্সিল লঞ্চ করে।

আইফোন নামের জন্য মামলা:

স্টিভ জবস আইফোন নামকরণ করার পরপরই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সিসকো অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ডিসট্রিক্ট আদালতের মামলায় হেরে যায় সিসকো। অ্যাপল তাদের স্মার্টফোনের নাম আইফোন রাখার অনুমতি পায়।

সোর্স:-[•]https://bit.ly/3dEqD7y
[•]https://bit.ly/2CUockB

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *