রাশিয়া কি আসলেই করোনার ভ্যাক্সিন বানিয়েছে?

Vladimir Putin নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গতরাতে প্রকাশ করা একটি স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, ”আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়ায় রেজিস্ট্রেশন হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাক্সিন।

ইতিমধ্যে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা ( necessary test stages) করে নিশ্চিত হয়েছেন যে এই ভ্যাক্সিন মানবদেহে নিরাপদ এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী।

রাশিয়া প্রথমবারের মত স্যাটেলাইট মহাশূন্যে পাঠিয়েছিল, এ বার রাশিয়া প্রথমবারের মত করোনার ভ্যাক্সিন বানাল।

এই ভ্যাক্সিন শুধু রাশিয়ানদের জন্যই নয়, পুরা বিশ্ববাসীকেই একটি নিরাপদ ভবিষ্যত উপহার দিবে।”

ভ্লাদিমির পুতিন পেজ থেকে দেয়া পোস্ট

এটা রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ, নাকি ভুয়া পেজ সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই পেজে ২.৩ মিলিয়ন ফলোয়ার রয়েছে এবং গত ১৫ ঘন্টায় ১.৫ লাখ বার এই স্ট্যাটাস শেয়ার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই এই নিউজটা মিডিয়ায় ভাসছিল যে রাশিয়ায় শীঘ্রই করোনার ভ্যাক্সিনের ঘোষনা দিবে।

পুতিন এর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সেই অফিসিয়াল ঘোষনা এল।

লক্ষ্য করুন, এই ঘোষনা দিয়েছে , রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, অর্থাৎ একজন রাজনীতিবিদ। কোনো স্পেশালিস্ট ডাক্তার বা বিজ্ঞানী কিন্তু এই ঘোষনা দেননি।

অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আমরা দেখেছি, রাজনীতিবিদরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ( কিংবা অজ্ঞতার কারনে) অনেক ভুলভাল কথা বলেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৭শে এপ্রিল বলেছিলেন, ইঞ্জেকশন হিসেবে শরীরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ঢুকিয়ে দিলে ফুসফুসে করোনা ভাইরাস মরে যাবে।

এছাড়াও, তিনি অনেকবারই বলেছেন, মাস্ক পরার দরকার নেই। সোশাল ডিসটান্স এর দরকার নেই। দেশ লকডাউন করার দরকার নেই । এসব বিধি নিষেধ না মেনে ঘুরে বেড়ালেও করোনা ভাইরাস আক্রমণ করবে না।

আমেরিকার সরকারী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এন্টনিও ফাউচি তার ভুল বারবার শুধরে দিতেন । কিন্তু যা ক্ষতি হওয়ার ,তা হয়ে গেছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কভিড পজিটিভ রোগী এখন আমেরিকায়। ইতিমধ্যে দেড় লাখ আমেরিকান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এই রোগে।

রাশিয়ার ক্ষেত্রেও পুতিন শুধুমাত্র গলাবাজি করছেন কিনা, সেটা একটা বড় প্রশ্ন। অনেকেই সন্দেহ করছেন , পুতিন সম্ভবত শুধুমাত্র পলিটিকাল কারনে, আমেরিকার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকার জন্য আগে আগে ভ্যাক্সিনের ঘোষনা দিচ্ছেন ।

 

২.

এই ধরনের যে কোনো ভ্যাক্সিনের দাবি করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রমান হচ্ছে বৈজ্ঞানিক গবেষনাপত্র অর্থাৎ রিসার্চ পেপার বা জার্নাল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা চায়নার সিনোভ্যাক এর রিসার্চ পেপার গত ২০শে জুলাই প্রকাশিত হয়েছিল বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট এ ।

সেখান থেকে আমরা জানতে পারছি তাদের গবেষনা পদ্ধতি, কাজের ধরন, কতজন ভলান্টিয়ারের উপরে টেস্ট করা হয়েছে, কত জনের কি রেসপন্স ইত্যাদি।

যেমন ধরুন, ল্যানসেট এ প্রকাশিত জার্নাল থেকে জানতে পারছি , অক্সফোর্ড এর ভ্যাক্সিনটা ১ হাজার লোকের উপর এপ্লাই করা হয়েছিল, ফেজ টু পর্যায়ে ।

পরীক্ষায় দেখা গেছে ,সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ২৮ দিন পরে সবার শরীরের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে ৬০% ভলান্টিয়ারের ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, বমি ইত্যাদি সাইড ইফেক্ট তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে , রাশিয়ান ভ্যাক্সিনের এ সংক্রান্ত কোনো গবেষনা পত্র প্রকাশিত হয়নি। ১৪ই জুনে শুধুমাত্র একটি প্রপোজাল প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে জানানো হচ্ছে, মোট ৩৮ জন ভলান্টিয়ারের উপর এই টেস্ট করা হবে।

ফেজ ১- এ ১৮ জন এর উপরে ৫ দিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল হবে । আর ফেজ ২ এ ২০ জনের উপরে ৪২ দিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল করা হবে। মোট ৪৭ দিনেই কাহিনী শেষ।

রাশিয়ার টেস্ট টা শুরু হয়েছিল ১৭ই জুন। টেস্ট শেষ আনুমানিক ৫ই আগস্ট। রেজাল্ট কালেক্ট করতে এবং এনালাইসিস করতে আরো কিছুদিন লাগবে।

( কিছু কিছু ভ্যাক্সিন ,যেমন চায়নার RBD-Dimer ট্রায়াল শুরুর ৫৬ তম দিনে এসেও ভলান্টিয়ারকে নতুন ভ্যাক্সিনের ডোজ প্রয়োগ করে) )

৫ই আগস্ট Gam-COVID-Vac Lyo নামের এই ভ্যাক্সিনের ফেজ টু এর টেস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল।

মাত্র ২০ জনের উপর এই ট্রায়ালের রেজাল্ট দেখে এর সাফল্য/ব্যর্থতা বলা যায় না।

এদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। কিছু মিডিয়া জানাচ্ছে যে এদের অধিকাংশই ভলান্টিয়ার নয়, তারা রাশিয়ান আর্মির সদস্য।

শারীরিক ভাবে তারা অধিক স্বাস্থ্যবান এবং দেশের সরকারের পছন্দ নয় এমন কোনো রেজাল্টের কথা তারা জানাবে না।

ভ্যাক্সিনের অন্যান্য প্রজেক্ট যেখানে মার্চ/এপ্রিল থেকেই ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করেছিল এবং এখনো ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে রাশিয়ার এই Gam-COVID-Vac Lyo ভ্যাক্সিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হয়েছিল ১৭ই জুন থেকে।

আজ ১১ই আগস্ট। ২ মাসের কম সময়ের মধ্যেই তারা সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করে সাফল্য দাবি করছে !!!

তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, সেই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের রেজাল্ট এখনো কোন জার্নালে প্রকাশিত হয় নাই ।

ভ্লাদিমির পুতিন নিজে দাবি করতেছেন, আমার Gam-COVID-Vac Lyo ভ্যাক্সিন সফল হয়েছে।

৩.

ফেজ টু পর্যায়ে সাফল্যের পরে ফেজ থৃ পর্যায়ে টেস্ট করতে হয় কমপক্ষে ৩০ হাজার লোকের উপরে।

আমেরিকার মডার্না কোম্পানি সবার আগে এই ফেজ থৃ ট্রায়াল শুরু করেছিল । পরে অচফোর্ড এবং চায়নার সিনোভ্যাক ও ফেজ থৃ ট্রায়াল শুরু করেছে।

ফেজ থৃ পর্যায়ে সাফল্য পেলে তবেই সেটা মানব শরীরে প্রয়োগ করার জন্য আমেরিকা বা ইউরোপীয় সরকারগুলো অনুমোদন দেবে।

এই ট্রায়ালগুলো খুবই দরকারী। কারন সময় নিয়ে ট্রায়াল না দেওয়া হলে এর সাইড ইফেক্ট বা ভবিষ্যত কার্যকারিতা বোঝা যাবেনা।

এখন যেটাকে কার্যকরী দেখাচ্ছে, অর্থাৎ ভ্যাক্সিন প্রয়োগের পরে ৩ মাস যে লোকটাকে করোনাভাইরাসে আক্রমন করেনি, পরে হয়তো দেখা যাবে, ৬ মাস পরে তাকে আক্রমন করছে।

কিংবা এমনও হতে পারে, তার শরীরে করোনাভাইরাস আক্রমন করছে না, কিন্তু ১ বছর পরে তার ক্যান্সার হচ্ছে।

কিংবা অন্য রোগ জীবানু খুব সহজে আক্রমন করছে।

এ কারনে দীর্ঘ সময় নিয়ে, সম্ভাব্য সকল ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোনো ভ্যাক্সিন দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে নিয়ে তারপরে সেটাকে বাজারে ছাড়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে , কয়েকটা দেশ ফেজ থৃ ট্রায়াল না করে ফেজ টু ট্রায়ালের রেজাল্টের উপর ভিত্তি করেই ভ্যাক্সিন মার্কেটে ছাড়ার কথা ভেবেছিল।

চায়নার বানানো একটি ভ্যাক্সিন, ক্যানসিনা বায়ো ফেজ টু ট্রায়াল সম্পন্ন করার পরেই চাইনিজ সরকার লিমিটেড স্কেলে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে দিয়েছে।

শুধুমাত্র চাইনিজ মিলিটারিরি জন্য আপাতত এই ভ্যাক্সিন ইউজ করা যাবে। আমজনতার জন্য নয়।

রাশিয়া ও সম্ভবত প্লান করছে, ফেজ টু এর রেজাল্ট দেখেই ভ্যাক্সিনটা বাজারে ছাড়ার জন্য। WHO কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই কাজকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছুদিন আগেই বলেছিল, রাশিয়ার ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের দাবি নিয়ে বিভ্রান্ত হবেন না।

বিশ্বের কোন দেশের কোন ভ্যাক্সিন কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটা দেখতে পাবেন উইকিপিডিয়ার এই চার্টে

উইকিপিডিয়া অনুযায়ী ,ফেজ থৃ ট্রায়ালে আছে মাত্র ৩ টা ভ্যাক্সিন ।

আমেরিকার মডার্না, ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড আর জার্মানির ফাইজার । বাকি ভ্যাক্সিনগুলো আরো পিছনের স্টেজে আছে।

সবমিলায়ে সারা বিশ্বে ১৫০ টার মত ভ্যাক্সিন নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। বাংলাদেশেও গ্লোব বায়োটেক একটি ভ্যাক্সিন নিয়ে গবেষনা শুরু করেছে ।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ৮ টা ভ্যাক্সিন এখন ফেজ থৃ ট্রায়ালে আছে । মডার্না, অক্সফোর্ড আর ফাইজার বাদেও অস্ট্রেলিয়ার একটা ভ্যাক্সিন আর চীনের ৪ টা ভ্যাক্সিনকে তারা তালিকাভুক্ত করেছে।

তবে এরা রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউশনের ভ্যাক্সিনকে ফেজ ওয়ান হিসেবে ধরছে ।

৪.

বিশ্ব সম্ভবত বর্তমানে একটা নতুন ধরনের ভ্যাক্সিন পলিটিক্স এর মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে কার্যকর ভ্যাক্সিন তৈরি হোক বা না হোক, পলিটিশিয়ানরা ভ্যাক্সিন আবিষ্কারের কথা বলে ক্রেডিট নিতে চাচ্ছে।

কিংবা খারাপ ভ্যাক্সিনকেও শতভাগ কার্যকরী ভ্যাক্সিন দাবি করে গলাবাজি করছে অন্য দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য ।

ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়েই আমরা ‘বিজ্ঞানী বনাম রাজনীতিবিদ’ দের এই সংঘর্ষ দেখি।

রাজনীতিবিদরা বিজ্ঞানীদের আবিষ্কারকে তাদের সুবিধামতো কাজে ব্যবহার করে। অন্যদিকে আলাভোলা বিজ্ঞানীরা সমীকরণ মেলানোর আনন্দেই ব্যস্ত ।

তারা রাজনীতির জটিল হিসাব নিকাশ অত বোঝে না। এ কারনেই আমরা দেখি, আলবার্ট আইনস্টাইন এটম বোমা বানানোর প্রজেক্টে কাজ করছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ে।

তার আনবিক সমীকরন দিয়ে এটম বোমা বানিয়ে জাপানে নিক্ষেপ করা হবে নাকি কোনো শান্তিপূর্ন কাজে ব্যবহার করা হবে, সে সম্পর্কে কোন আইডিয়া আইনস্টাইনের ছিল না।

জটিল রাজনীতির হিসাব তিনি বুঝতেন না। কিন্তু তার বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ব্যবহার করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বোমা বানিয়ে ৪ লাখ জাপানিজ খুন করেছিলেন।

খুবই সাম্প্রতিক উদাহরন হচ্ছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারো। তার দেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, দেশে এ্যাফরেস্টেশন ( বনভূমি উজাড়) হচ্ছে।

এটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু প্রেসিডেন্ট তাদের কথায় পাত্তা দিচ্ছেন না। উলটা তাদেরকে সরকারী চাকরি থেকে ছাটাই করে দিচ্ছেন। আমাজন জংগলে ইচ্ছা করে আগুন লাগিয়ে বনভূমি উজাড় করে চাষের জমি বাড়াচ্ছেন তিনি।

১৯৬০ এর দশকে, ঠান্ডা যুদ্ধ চলার সময়ে আমেরিকা এবং রাশিয়া একের পর এক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করতে চাইত অপরের সাথে পাল্লা দেওয়ার জন্য।

রাশিয়া ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক পাঠাল মহাশূন্যে ।ল প্রথম কুকুর লাইকা, প্রথম মানব ইউরি গ্যাগারিন, প্রথম মানবী ভ্যালেন্টিনা তেরেস্কোভা কে মহাকাশে পাঠাল রাশিয়া ।

আমেরিকা তারপর NASA প্রতিষ্ঠা করল। খুব দ্রুত মহাকাশ প্রজেক্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে ১৯৬১ সালে এ্যপোলো-১১ রকেটে করে চাঁদে ল্যান্ড করলে নিল আর্ম স্ট্রং, মাইকেল কলিন্স, এডুইন অলড্রিনরা। এর পর এপোলো ১২,১৩,১৪,১৫—-, আমেরিকার এস্ট্রনটরা চাঁদে যেতেই থাকল।

এরপর রাশিয়া এবং আমেরিকা মাতল এটম বোমা নিয়ে। আমেরিকা একটা বোমা বানালে রাশিয়া দুইটা বোমা বানায়। আমেরিকা আরো ৪ তা নতুন বোমা ফুটায়।

রাশিয়া কিউবা দখল করে আমেরিকার দিকে মিসাইল তাক করে রাখে। আমেরিকা পোল্যান্ড দখল করে নিয়ে রাশিয়ার দিকে বন্দুক ধরে রাখে।

কোনো এক দিক থেকে কেউ আরেকজনের দিকে বোমা মারলে ,পালটা আঘাত ও আসবে শীঘ্রই ।

এইরকম প্রতিযোগিতা করতে দেশগুলো দরিদ্র হয়ে যেতে লাগল। দেশের বাজেটের বড় একটা অংশ আর্মির কাছে চলে যেত।

ফলে জনগনের ভাগে কম পড়ত। রাশিয়ার জনগন একসময়য় বিদ্রোহ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে ফেলল। বর্তমান রাশিয়া হচ্ছে ইউনাইটেদ সোভিয়েত ইউনিয়নের একটা অংশ। মূল সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৫ টা দেশ ছিল।

আমেরিকা-রাশিয়ার মত এইরকম উত্তেজনা বিশ্বের আরো অনেক দেশেই ছড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে ভারত পারমানবিক বোমার পরীক্ষা মূলক বিস্ফোরন ঘটালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছিলেন, খুব দ্রুত আমাদের পারমানবিক বোমা বানাতে হবে।

ইন্ডিয়াকে দেখিয়ে দিতে হবে যে আমরাও পারি। অন্য সব সেক্টরে বাজেট কমিয়ে বোমা বানানোর পেছনে টাকা দিতে হবে ।

প্রয়োজনে আমরা বউ-বাচ্চা-পুরা পরিবার নিয়ে ঘাস খাব আগামী কয়েক বছর, কিন্তু তাও বোমা বানাতে হবে দ্রুত।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়েও বর্তমান বিশ্বে পলিটিক্স চলছে । চায়না এতদিন গ্রিন হাউজ গ্যাস বেশি পুড়িয়েছে , এ কারনে আমরা এখন বেশি পোড়াব –এ কথা বলছে আমেরিকা,ইউরোপ।

তাদের লজিক হচ্ছে- আমরা যদি গ্রিন হাউজ গ্যাস এর ব্যাবহার কমাই, তাহলে চায়না এগিয়ে যাবে। সো, আমেরিকা এখন এই কাজ করতে চায়না।

প্যারিসের জলবায়ু মিটিং থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেরিয়ে এসেছিল কয়েক বছর আগে।

আজকের দিনে রাশিয়ার এই ভ্যাক্সিনটা বানাচ্ছে গ্যামেলিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউশন, যার নামকরন করা হয়েছে রাশিয়ান অনুজীববিজ্ঞানী এবং ভ্যাক্সিন গবেষক Nikolay Gamaleya (১৮৫৯-১৯৪৯) এর নামে।

রাশিয়া থেকে তিনি স্মল পক্স এবং প্লেগ দূর করেছিলেন। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান আজ শুধুমাত্র প্রতিযোগিতা করার জন্য যেন তেন প্রকারে গবেষনা উপস্থান করছে।

নিকোলাই গ্যামেলিয়া কি আজকের দিনের এই পলিটিক্স এর কথা ভাবতে পেরেছিলেন ?

৫.

আপডেট- আজ ,১১ই আগস্ট রাশিয়ান সময় সকালে ভ্যাক্সিনটা রেজিস্ট্রেশন করার কথা জানাচ্ছে রাশিয়ার নিউজ চ্যানেলগুলো

তারা খুব গর্ব করে জানাচ্ছে, বিশ্বের মধ্যে আমরাই সর্বপ্রথম করোনার ভ্যাক্সিন বানিয়েছি।

এই ঘোষনায় নিশ্চিতভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাথা খারাপ হয়ে যাবে। নভেম্বরে আমেরিকায় ইলেকশন। ট্রাম্প আগে আগে ভ্যাক্সিন বানিয়ে সেই ইলেকশনে আমেরিকান জনগনের কাছে ভোট চাওয়ার প্লান করতেছিল।

এখন রাশিয়ার কাছে ভ্যাক্সিন রেসে হেরে যাওয়া তার কাছে খুব অপমানজনক হবে। সে মান ইজ্জত বাচানোর জন্য আরো নতুন কিছু বানানোর ঘোষনা দিতে পারে।

আগামী কয়েকদিনে আরো অনেক প্রপাগান্ডা-ফেক নিউজ দেখব আশা করি।

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *