চাঁদের বুকেও জায়গা পেয়েছিলেন দেওয়ানবাগী পীর!

আজ সকালে মারা গেছেন দেওয়ানবাগী পীর সাহেব ‘মাহবুব এ খোদা’।

এই পীরের অলৌকিক ক্ষমতার নিদর্শন হিসেবে তার ভক্তরা দাবি করেন , ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের পূর্নিমার চাঁদের মাঝে দেওয়ানবাগী পীরের ছবি দেখা গিয়েছিল।

শুধু ওই একবার নয়, এরপর থেকে প্রতি পূর্ণিমাতেই চাঁদের মাঝে দেওয়ানবাগীর ছবি দেখা যায় বলে তার ভক্তরা দাবি করেন।

২০০৮ সালের ১২ই অক্তোবর এর একটি প্রেস রিলিজে দেওয়ানবাগীর অফিস থেকে জানানো হয়, পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগীর ছবি প্রথমে দেখতে পান বাসাবো-সবুজবাগ এলাকার কয়েকজন যুবক।

প্রেস রিলিজ
প্রেস রিলিজ

তারপর মোবাইলের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন জায়গায় খবরটা ছড়িয়ে দেন ( তখন ফেসবুক এর যাত্রা কেবল শুরু হয়েছে, ইউজার ছিল অনেক কম)। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকেও তখন পূর্ণিমার চাঁদে দেওয়ানবাগী হুজুরের ছবি দেখা যেতে থাকে।

এই ছবি দেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনগন আনন্দ মিছিল বের করে। মসজিদে মসজিদে মাইকে করে জানানো হয় এই অলৌকিক ঘটনা।

শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত মালয়েশিয়া ইংল্যান্ড আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও চাঁদের বুকে দেওয়ানবাগীর এই ছবি দেখতে থাকেন তার ভক্তরা।”

পূর্ণিমার চাঁদে বাবা দেওয়ানবাগী‘ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে জানা যাচ্ছে– ” পৃথিবী সৃষ্টির পর আজ পর্যন্ত কারো চেহারা পূর্নিমার চাঁদে দেখা গেছে, এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই। সূফী সম্রাট দেওয়ানবাগী হুজুর কেবলাজান এর চেহারা মোবারক ই শুধু পূর্নিমার চাঁদে দেখা যাচ্ছে ।

সে দিন ছিল ২০০৮ সালের ১০ই অক্টোবর । রাত ঠিক এগারোটায় আকাশের চাঁদে হুজুর কেবলার চেহারার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি দেখা শুরু হয় । তারপর থেকে আজ পর্যন্ত এটা দেখা যাচ্ছে । “‘

এই অলৌকিক ঘটনা উদযাপন করার জন্য প্রতি পূর্ণিমা রাতেই মতিঝিলের দেওয়ানবাগ শরীফে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

২০০৮ সালের অক্টোবর মাসের পূর্নিমার চাঁদের মাঝে দেওয়ানবাগী পীরের ছবি দেখা গিয়েছিল।

তবে মাঝে মাঝে পূর্ণিমার চাঁদের বুকে অন্যান্য জনপ্রিয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের চেহারা দেখার কথাও দাবি করেন তাদের ভক্তরা। গতকাল , ২৮শে ডিসেম্বর গুজব উঠেছিল, মিজানুর রহমান আজহারিকে নাকি চাঁদে দেখা যাচ্ছে । গত ফেব্রুয়ারি এবং এপ্রিলেও একই দাবি উঠেছিল।

২০১৩ সালের মার্চ মাসেও গুজব উঠেছিল, দেলোয়ার হোসেইন সাঈদীকে নাকি পূর্ণিমার চাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।

এত মানুষকে যদি চাঁদে দেখা যেতে থাকে , তাহলে চাঁদে তো ট্রাফিক জ্যাম লেগে যাওয়ার কথা 🙂

দেওয়ানবাগীকে যদি ২০০৮ সাল থেকেই দেখা যেতে থাকে, তাইলে সাঈদী, আজহারিদের দেখা গেল কিভাবে ?

চাঁদের মধ্যে কি তাহলে সাঈদী, দেওয়ানবাগী, আজহারিরা ভাগাভাগি করে থাকেন ? একেক পূর্ণিমাতে একেকজন দেখা দেন ? 🙂

এখন, দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পরে, নেক্সট পূর্নিমা রাতে কার চেহারা দেখা যাবে চাদে? কারো কোনো অনুমান?

সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

১। ভক্তগন রাজনৈতিক বা অন্য কোন সুবিধা আদায়ের জন্য মিথ্যা বলছেন। চাঁদে কাউকেই দেখেন নাই তারা।

২। ভক্তদের চোখে হ্যালুসিনেশন/ইলুশন হয়েছিল, তাই তারা চাঁদের মধ্যে কাংখিত ব্যক্তির ছবি দেখেছেন । মানুষের চোখে হ্যালুসিনেশন হতে পারে, কিন্তু ক্যামেরার হ্যালুসিনেশন হয়না।

ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে এক্সাক্টলি বোঝা জাবে, সেখানে কারো ছবি দেখা যাচ্ছে কিনা।

৩। ছবিতেও যখন দেখা গেল, মানুষের মুখের আকৃতির কিছু নাই, তখন ভক্তগন ফটোশপ ( বা অন্য কোনো এডিটিং সফটওয়ার )দিয়ে দেওয়ানবাগী, সাঈদী বা আজহারির ছবি এডিট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সার্কুলেট করে দিয়েছে ।

৪। প্যারাইডোলিয়া নামে একটা প্রবণতা আছে মানুষের ব্রেইনের । এই ক্ষেত্রে মানুষ পরিচিত জিনিসের প্যাটার্ন খোজে।

দুইটা ডট পাশাপাশি থাকলে মানুষের ব্রেন এটাকে চোখ এর সাথে তুলনা করে। এইরকমভাবে চাঁদের আকাবাকা দাগকেও অনেকে চরকা কাটা বুড়ি , ঝলসানো রুটি থেকে শুরু করে অনেক প্রিয় মানুষের মুখ হিসেবে কল্পনা করেন।

চাঁদের মধ্যে এভাবেই দেওয়ানবাগী,সাঈদী, আজহারির মুখের সাথে মিল দেখতে পারেন কেউ কেউ। কিন্তু সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ছবিগুলো নিঃসন্দেহে এডিটেড।

তথ্যঃ —

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *