বলসোনারো’র করোনা বলদামি!

”যারা যারা করোনার ভ্যাক্সিন নিবে, তারা কুমির হয়ে যাবে। ছেলেরা মেয়ে হয়ে যাবে ,নাকি সুরে কথা বলবে। আর মেয়েরা ছেলে হয়ে যাবে, তাদের মুখে দাড়ি গজাবে ।”– ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট কে উদ্ধৃত করে এমন একটা খবর ছাপা হয়েছে কয়েকটা পত্রিকায়।

জানিয়ে রাখি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো হচ্ছে বেশ পাগলাটে কিসিমের লোক । ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে মিল আছে অনেকটা । বিভিন্ন সময়ে অনেক উলটাপালটা কথাই বলেম এই প্রেসিডেন্ট ।

পড়ুনঃ করোনা-বলদদের গল্প- পর্ব -৪

তবে ”মানুষের কুমির হয়ে যাওয়ার খবরে” তাকে একটু মিসকোট করা হয়েছে। তিনি সরাসরি এমন কথা বলেন নাই।

করোনা আসার পরে এই প্রেসিডেন্ট স্বাস্থ্যবিধি মানতেন না মোটেই । মাস্ক না পরেই ঘুরে বেড়াতেন। এক পর্যায়ে ব্রাজিলের হাইকোর্ট তাকে মাস্ক পরার আদেশ দিয়েছিল। তিনি সেই আদেশ ও মানেন নি।

বেপরোয়া চলাফেরার কারনে তিনি নিজেও করোনায় সংক্রমিত হয়েছিলেন গত ৭ই জুলাই । না,মারা যাননি। সূস্থ হয়ে কাজে ফিরে এসেছেন এবং করোনা নিয়ে আজব আজব কথা বলে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ, হাইকোর্টের সাথে তার আবার কাইজ্জা লেগেছে করোনা ভ্যাক্সিন নিয়ে। ব্রাজিলের আদালত বলছে, সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার টীকা নিতে হবে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট বলছেন, না, ইটস দেয়ার চয়েস। যার ইচ্ছা হয় সে টীকা নিবে, যার ইচ্ছা নাই, সে টীকা নিবেনা । টীকা নিতে কাউকে বাধ্য করা যাবেনা।

এ বিষয়ে গত ১৬ই ডিসেম্বর তিনি ব্রাজিলের Porto Seguro শহরে এক অনুষ্ঠানে ভ্যাক্সিন নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছিলেন পর্তুগীজ ভাষায়। সেই ভাষনটা ইংরেজি অনুবাদ করে ভুলবশত বা উদ্দেশ্যকৃতভাবে কিছু মিডিয়া একটু অতিরঞ্জিত ভাবে প্রকাশ করছে।

পর্তুগীজ ভাষায় তার ভাষনটা ইউটিউবে পাওয়া যাচ্ছে

ব্রাজিলের স্থানীয় পত্রিকা uol এ প্রকাশিত এই খবরকে কোট করছে অন্যান্য মিডিয়াগুলা। ১৭ই ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় এই খবর প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল এখানে।

এই পত্রিকার খবরটা ইংরেজি অনুবাদ করে দেখা যাক, জায়ের বলসোনারো আসলে কি বলছিলেন।

I’m not going to get [the vaccine]. Some say I’m setting a bad example. Hey asshole, oh idiot, what are you saying about the bad example, I already had the virus, I already have antibodies. Why should I get the vaccine again?…

And another thing that has to be made very clear …

There in the Pfizer contract , it is very clear that “we (Pfizer) are not responsible for any side effect”.

If you become an alligator, it is your problem. If you become Super Man, if a beard is born in a woman there or a man starts to speak thin, they have nothing to do with it….

তার বক্তব্য একটু ভাবানুবাদ করার চেষ্টা করি।

“যে যা বলে বলুক, আমি নিজে টীকা নিব না । আমার অলরেডি একবার করোনা হয়ে গেছে, আমার শরীরে করোনার এন্টিবডি তৈরি হয়ে গেছে। আমার আবার ভ্যাক্সিন নেওয়ার কোনো দরকার কি ?

একটা জিনিস খেয়াল করুন। ফাইজার কোম্পানি এই করোনার টীকা বিক্রি করছে। ওরা কিন্তু বলে দিচ্ছে, টীকা নেওয়ার পরে কোনো সাইড ইফেক্ট হলে ফাইজারের কোনো দায় নেই। তারা কোনো ক্ষতিপূরন দিবেনা।

এখন, ফাইজারের ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরে যদি আবার শরীরে কোনো তীব্র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় ( যেমন- মানুষ যদি কুমির হয়ে যায়, কিংবা ছেলেরা মেয়েদের মত চিকন কন্ঠে কথা বলা শুরু করে, কিংবা সুপারম্যানের মত শক্তিশালি হয়ে যায়, কিংবা মেয়েদের মুখে দাড়ি গজানো শুরু করে) সেক্ষেত্রে ফাইজার কিন্তু কিছুই করবে না ।”

দেখা যাচ্ছে, ”করোনার ভ্যাক্সিন নিলে মানুষ কুমির হয়ে যাবে, এমন কথা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলেন নি।

তিনি শুধুমাত্র এই টীকার সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিয়ে তার আশংকার কথা বিভিন্ন উদাহরন দিয়ে বুঝাচ্ছিলেন।

তবে তার বক্তব্য এতই বিকৃতভাবে মিডিয়ায় এসেছে, যে অনেকে জিজ্ঞেস করছে, টিকা নিলে মানুষ কুমির হয়ে যাবে–এই কথা আসলেই সত্য কিনা !!!

করোনার ভ্যাক্সিন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিতর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে। ভ্যাক্সিনবিরোধী অনেক গ্রুপ দাবি করছে , ভ্যাক্সিন নেওয়া হলে বাচ্চারা অটিস্টিক হয়ে যাবে।

আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ্যান্টি ভ্যাক্সার আন্দোলনকারীদের অনেক মিটিং মিছিল সমাবেশ ও হচ্ছে।

পড়ুনঃ মাস্ক ব্যাবহারের বিরুদ্ধে যারা

ধর্মীয় কারনেও অনেকে করোনার ভ্যাক্সিনের বিরোধীতা করছেন। অস্ট্রেলিয়ান ইমাম সুফিয়ান খলিফা দাবি করেছেন, অক্সফোর্ডের তৈরি করা করোনার ভ্যাক্সিন হারাম। বিশ্বাসী মুসলিমদের তিনি এ টীকা না নিতে উপদেশ দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের বাংলাদেশী কমুনিটির মধ্যেও বিতর্ক শুরু হয়েছে, ফাইজার এর করোনা ভ্যাক্সিন হালাল নাকি হারাম সেটা নিয়ে ।

পড়ুনঃ ভ্যাক্সিন নিয়ে হালাল-হারাম বিতর্ক!

এসব বিতর্ক শুধু আজকের বিষয় না। কয়েকশত বছর ধরেই বিভিন্ন ধর্মীয় , সামাজিক, রাজনৈতিক গ্রুপ বিভিন্ন কারন দেখিয়ে ভ্যাক্সিন গ্রহনের বিরোধীতা করছে।

সবচেয়ে বড় উদাহরন সম্ভবত তালেবান গ্রুপ, যারা পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে তাদের নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকায় পোলিও টীকা কর্মসূচী চালাতে দেয়না।

বিশ্বের বাকি সব দেশ থেকে পোলিও রোগ নির্মূল হয়ে গেছে, কিন্তু শুধুমাত্র পাকিস্তান আর আফগানিস্তানে তালেবানের বাধার কারনে পোলিও রয়ে গেছে এখনো ।

এরা পোলিও মুক্ত হলে পুরা বিশ্বকেও পোলিও মুক্ত ঘোষণা করা যেত।

( পড়তে পারেন- ভ্যাক্সিন ব্যবহারের বিরোধীতা করছেন যারা

করোনা নিয়ে আগামী দিনগুলাতে এই ধরনের বিতর্ক আরো বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ফেসবুকারদের মধ্যে ”ভ্যাক্সিন নিলে যৌণ ক্ষমতা কমে যাবে, কিংবা সন্তান হবেনা” এমন গুজব ছড়াতে দেখছি।

ভ্যাক্সিন নিয়ে এমন কোনো গুজব আপনি শুনেছেন নাকি ? কমেন্টে জানান।

———-

সংশ্লিষ্ট নিউজ লিংক

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *