নেমোফোবিয়াঃসময় যখন ফোনের স্ক্রিনে বন্দি

কয় ঘন্টা ইউস করেন আপনার মুঠো ফোন? ৫/৭/১০/১২/১৪ ঘন্টা? লক্ষ করে দেখেছেন কি!

 

  •  ৩-৪ ঘন্টা ফোন থেকে দূরে থাকলে আপনার কষ্ট হয়? খালি খালি লাগে
  •  একটুখানি ফেসবুকে ঢু না মারলে আনচান লাগে!  রাতে ঘুম ভেঙে গেলে ফোন চেক করেন!
  • দুপুরের খাবার বা রাতেও খাবার খাওয়ার সময়ও ফোন চেক করেন!
    • ফোনের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিদ্যুৎ দুই একদিন না আসলে অন্যরকম লাগে!
  • ফোনে কোনো সিগনাল না থাকলে আপনার এমন অনুভূতি হয় যে আপনার জীবনটাই বুঝি বৃথা
  • এমনকি ওয়াশরুমেও ফোন নিয়ে যান?

 

তাহলে বুঝে নিন আপনি ফোনে আসক্ত। যাকে বলে নোমোফোবিয়া।

 

আসুন দেখে নেই এর ক্ষতিকর দিকগুলো:

  •  এটি উদ্বেগ তৈরি করে। ফোন থেকে দূরে থাকলে এই রোগে আক্রান্তরা উদ্বেগে ভোগেন। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া এর ফলে মনোযোগও নষ্ট হয়।

 

  • সময়ের অপচয় করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে মাল্টিটাস্কিং বা একই সময়ে একাধিক কাজ করা ক্ষতিকর। কারণ এভাবে তথ্য ধারণ ও প্রসেস করা যায় না। অনবরত ফোন চেক করলে সময়ের অপচয় হয় প্রচুর।

 

  • ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। ফোন থেকে যে নীল আলো নিঃসরণ হয় তা মস্তিষ্কে এই সঙ্কেত দেয় যে এখন ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময়। যা ঘুমের জন্য সহায়ক মেলাটোনিন হরমোনকে দমণ করে।
  • নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত লোকেরা ত্বকের সমস্যায়ও আক্রান্ত হন। অনবরত ফোনের সংস্পর্শে থাকার ফলে ব্রণ, অ্যালার্জি এবং ডার্ক স্পট পড়তে পারে।
  • পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোন চেক করাটা নিষ্ঠুর আচরণ বলে গণ্য করা হয়। কর্মক্ষেত্রেও এই ধরনের কাজ করলে আপনাকে উদাসীন ভাবা হতে পারে।

জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত ভীষণ দামী। ফোনের পিছনে দৈনিক ৫-৭ ঘন্টা চলে গেলে বছরে ২,৫২০ ঘন্টা চলে যায়। ধরুন আপনি ৮০ বছর বাঁচবেন। তাহলে ৮০ বছরে চলে যাবে ২০১,৬০০ ঘন্টা। যার মানে ২৩ বছর ৩ মাস ৩৩ দিন সময় চলে যায়! ভাবুন একবার।

২৩ বছর আপনি টানা ফোনে সময় দিলেন!

ফেসবুকে, গেমিং এ, মেসেঞ্জারে অনর্থক আড্ডায়, অশ্লীলতায়, বেহায়াপনায়, অনর্থক চ্যাটিং এ চলে গেলো ২৩ বছর! এই ২৩ বছর আপনি আর কখনো ফিরে পাবেন না।

ভাবুন একবার এই ২৩ বছরে কি কি করতে পারতেন?

 

  • কমপক্ষে ১০ হাজার রাকাআত নফল নামাজ হতো।
  • কমপক্ষে ২ হাজার বার কোরআন খতম।
  •  কমপক্ষে ৮ হাজার ঘন্টা জিকির ।

 

যার দ্বারায় আপনার নেকির পাল্লা অনেক ভারী হয়ে যেতো। আপনি বৃদ্ধ হলে সস্তি বোধ করতেন। আফসোস করতে হতো না। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জান্নাতের প্রবল আশা জাগতো আপনার প্রশান্ত মনে।

 

অথচ এসবের কিছুই হলো না আপনার! আপনি আরেকবার জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে হাত পাতলেন! কিন্তু তা কখনোই সম্ভব না আর। এতো সময় অনর্থক ব্যায়ে আপনার আফসোসের কোনো সীমা থাকলো না। আফসোস করতে করতে লক্ষ লক্ষ বছর চলে যেতে পারে।

 

এমনকি জান্নাতে গেলেও জান্নাতিরা ওই সময়ের জন্য আফসোস করবে, যে সময়টা আল্লাহর স্মরণ ছাড়ায় কেটে গেছে! ভেবে দেখুন আপনি জান্নাতে গেলে কতক্ষানি আপসোস করবেন এই সময়ের জন্য! আর অনর্থক কাজ একজন মানুষকে জাহান্নামের উপযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট।

 

কারণ এটাই তাকে মহান রব থেকে দূরে রাখে ইবাদত থেকে দূরে রাখে। অসংখ্য কবিরা গুনাহে ডুবিয়ে রাখে। আশঙ্কা তো করা উচিত আমি কি পারবো ইমান নিয়ে কবরে যেতে! আমার যে অধিকাংশ সময় চলে গেছে অনর্থক কাজে নিমজ্জিত থেকে!

 

তাই আসুন অনর্থক ফোন দেখা, গেমিং, অনর্থক চ্যাটিং, আড্ডা এসব থেকে বিরত থাকি।

 

কিভাবে বেঁচে থাকবোঃ

 

  •  ঘুমানোর আগেই ফোন বন্ধ করে রাখুন এবং বিরামহীনভাবে ঘুমান।

 

  • নোটিফিকেশন রিসিভ কমিয়ে রাখুন। নানা অ্যাপ থেকে প্রতিনিয়ত নোটিফিকেশন আসলে তা আপনার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাবে।

 

  •  অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো বন্ধ করে রাখুন। কারণ সেগুলোও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।

 

  • ফোনে সময় চেক করার বদলে হাতঘড়ি পরুন।

 

  • নিজের একটি ফোন ফ্রি জোন তৈরি করুন। এবং কাজের সময় ফোন ব্রেক নিন।

 

  •  ফোনের চেয়ে বরং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটান। আর যখন ফোন সঙ্গে থাকবে তার ব্যবহার সীমিত করুন।

 

  • বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা নোমোফোবিয়ায় আক্রান্ত হন তারা মুখোমুখি কীভাবে একজন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে হয় তা ভুলে যান। এটি ভয়ংকর আকার ধারণ করার আগেই ফিরে আসুন।

 

তথ্য ও সূত্র : কালের কণ্ঠ

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *