বিজ্ঞানের বিভিন্ন আবিষ্কারের পেছনে মজার ঘটনা

ঘটনার ঘনঘটা ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার :

বাগান – নিউটন – চোখের সামনে আপেল গাছ – আপেল মাটিতে পড়লো গাছ থেকে।

এতটা পড়ে অনেক বিজ্ঞানপ্রেমি ঠাহর করতে পারছে , এটা নিঃসন্দেহে মধ্যাকর্ষণ সূত্রের আবিষ্কারের গল্প। আবার বাস্তব ঘটনা ও হতে পারে।
তেমনই কিছু আবিস্কারের পেছনেও রয়েছে এমন নানা ঘটনা –

🧠১) কেকুলের স্বপ্ন ও বেঞ্জিন(C6H6) আবিষ্কার :

অষ্টাদশ শতকের ঘটনা। জার্মান জৈব রসায়নবিদ ফ্রেডরিক অগাস্ট কেকুলে একদিন রাতে একটা স্বপ্ন দেখলেন।

স্বপ্নটা কি? সেটা কিছুটা এমন – একটা ঠান্ডা সাপ খুব আসতে আসতে কুণ্ডলী পাকাচ্ছে এবং নিজের মুখে নিজেরই লেজ ধরে আছে।

বৃত্ত, অর্ধবৃত্ত, হতে হতে সে নিজে ক্রমশ হয়ে উঠছে ষড়ভূজ । বিছানা থেকে স্বপ্ন ভেঙে লাফিয়ে উঠলো বিজ্ঞানী , পেয়েছেন , তিনি পেয়েছেন ।

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা ,নিজের লেজ নিজের মুখে নেওয়া সাপ – এমন এক ধর্মীয় ও পৌরাণিক প্রতীকে বিশ্বাস করতো, জার পোশাকি নাম অরবরস ( OROBOROS)

স্বপ্নের ইশারা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তা মিশে ,সরলতম জৈব যৌগ বেঞ্জিনের রাসায়নিক গঠনের সঠিক ধারণার জন্য ওই স্বপ্নের কাছে চিরঋণী হয়ে থাকবে , কেকূলে ( 1829- 1896)।

🧠২) কনস্টান্টাইন ও স্যাকারিন আবিষ্কার:

কনস্টানটাইন ফালবার্গ । জপ হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এর এই তরুণ রসায়ন বিজ্ঞানী ।

পেট্রোলি়য়াম থেকে তৈরি হরেরকম পদার্থ নিয়ে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করছিলেন।বারবার প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে তিনি পাশের ঘরে গিয়ে খাবার খেতে বসলেন।

আশ্চর্য! যাই খায় সব মিষ্টি লাগে।অথচ কোনো মিষ্টদ্রব্য তার প্লেটে নেই। তিনি ছুটে গেলেন ,পরীক্ষাগারে এবং খুঁজে পেলেন চিনির থেকেও 550 গুন বেশি মিষ্টি দ্রব্য – ‘ স্যাকারিন ‘।

🧠৩) প্লাস্টিক আবিষ্কার :

এক বিজ্ঞানী একদিন দুপুরে খাওয়া দাওয়া করছিলেন। টেবিলে পনির । একটা বিড়ালও পনির খাওয়ার জন্য লোভ দেখালো। উনি তাড়া করলেন , বিড়াল ছুটলো।

কাছেই বোতল ভর্তি কেমিক্যাল ছিলো, ভেঙে একটি বোতল চিজের ওপর পড়লো, কিছু ক্ষন পর পাত্রে রয়েছে মোটামুটি শক্ত সাদা পদার্থ। পরবর্তী কালে এই ঘটনাই প্লাস্টিক আবিষ্কার কে অনুপ্রাণিত করে বলে শোনা যায়।

🧠৪) আকাশে ওড়ার প্রথম ভাবনা :

খেলতে খেলতে দুই ভাই , দুটো ঠোঙার খোলা মুখ উনুনের উপরে ধরলো।আশ্চর্য! ঠোঙা লাফিয়ে উঠে উপরে চলে গেলো।সেই থেকে দুই ভাই জোসেফ ও এটনে , এদের মাথায় এলো আকাশে ওড়ার ভাবনা।

🧠৫) খাদহীন সোনা ও আর্কিমিডিস :

রাজার আদেশ সোনার মুকুটে খাদ আছে কিনা বলতে হবে তাও আবার না ভেঙে, অগত্যা মুকুট এলো আর্কিমিডিসের কাছে। আর্কিমিডিস পুকুরের ধারে স্নানের জন্য বসলেন। ঠিক পুকুর নয়, বাঁধানো চৌবাচ্চা ।

আর্কিমিডিস নামলেন আর জল উপচে পড়ছে। তিনি চিৎকার করে উঠলেন –
‘ ইউরেকা ,ইউরেকা ‘ মানে ‘ আমি পেয়েছি ‘।

🧠৬) তড়িৎ কোষ ও বিজ্ঞানী ভোল্টা :

একদিন আকাশে ঘুড়ি ছেড়ে সরাসরি বিদ্যুৎ শক খেলেন এক ব্যাক্তি। শুরু মেঘের মধ্যেকার স্থির তড়িৎ গবেষণা।

বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যালভানি একদিন সদ্য চামড়া ছাড়ানো ব্যাংকে তামার হুকে আটকে লোহার দন্ডে ঝুলিয়ে পরীক্ষা করছিলেন , হাওয়ায় যেই ব্যাঙটি লোহাকে স্পর্শ করছে , পা দুটো হটাৎ ছিটকে যাচ্ছে।

ঘটনা শুনে মাথার মধ্যে বিদ্যুৎ খেলে গেলো, বিজ্ঞানী ভোল্টা আবিষ্কার করলেন তড়িৎ কোষ।

🧠৭) 🥔 পটেটো চিপস্ ও জর্জ ক্রাম :

1853 সাল । নিউইর্কের জর্জ ক্রাম ছিলেন প্রখ্যাত শেফ। তিনি নোনতা স্বাদের এক বিশেষ ধরনের আলুভাজা বাজারে আনেন।এক ক্রেতার অভিযোগ

ওই আলুভাজা যথেষ্ট মুচমুচে নয়, বরং নরম ও আদ্র। ক্রাম বিরক্ত হয়ে আলুগুলো পাতলা পাতলা করে কাটলেন ও চর্বিজাতীয় তরলে ভাজলেন ,এবং পরিমাণ মতো লবণ ছিটিয়ে দিলেন। কেল্লা ফতে! তৈরি হলো পটেটো চিপস্।

🧠৮) মাইক্রো ওয়েভ ওভেন ও স্পেন্সার :

পার্সি স্পেন্সার একদিন ভ্যাকুয়াম টিউব নিয়ে গবেষণায় ব্যাস্ত ছিলেন গবেষণাগারে। পকেটে ছিল ক্যান্ডি বার। কিছুক্ষণ পর দেখলেন ওটা বলতে শুরু করলো। তিনি পপকর্ন নিয়েও দেখলেন , সেটি নরম ও সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাথায় আইডিয়া এলো, তাহলে কি তরঙ্গের দ্বারা রান্না করা সম্ভব? শুরু হলো ওভেনের চিন্তা ভাবনা।

🧠৯) আমন্ত্রণ পত্র ও মেন্ডেলিফ :

1869 সাল, রাশিয়া। একটি কারখানায় রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কিছু সমস্যার জন্য। সমাধানের জন্য গবেষক মেণ্ডেলিফ কে আমন্ত্রণ জানানো হলো, যাওয়ার জন্য প্রায় তৈরি । হটাৎ বসে পড়লেন টেবিলে, মাথায় খেলে গেলো একটা বিদ্যুৎ – আমন্ত্রণ পত্রের ওপর লিখলেন বিভিন্ন মৌল পদার্থের নাম, তা দিয়ে বানালেন ছোটো ছোটো কার্ড, পরিচয় লিপিতে লিখলেন মৌলের নাম, পারমাণবিক ভর, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম।কার্ড সাজানোর খেলা থেকে জন্ম নিলো, পর্যায় সারণী।
মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণী।

শ্রীলঙ্কার একটি রূপকথা আছে নাম – ‘ THE THREE PRINCESS OF SERENDIP ‘।
সেই রূপকথা থেকে ইংরেজিতে SERENDIPITY কথাটা এসেছে। অর্থ – কোনো কিছু আবিস্কারের ক্ষমতা যা নিতান্তই আকস্মিক ও কাকতালীয়।
জানি না বিজ্ঞানের সব আবিস্কারের পেছনে এই আকস্মিক ব্যাপার আছে কিনা?
হয়তো!

পদার্থবিদ হাইজেনবার্গ বলেছেন –

‘ An expert is someone who knows some of the worst mistakes that can be made in his subject and who manages to avoid them’।

আমাদের প্রস্তুতি হয়তো এমন একজন এক্সপার্ট হয়ে ওঠার।

 

লিখাঃ সায়ন্ত কুমার

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *