একদম সব ছেড়ে দিয়ে কোভিড ছড়াতে দিলে হের্ড ইমিউনিটু আসতে কয়দিন লাগবে? ৭টা পয়েন্ট

ব্রাজিলের এমাজনের একদম মুখে একটা শহর আছে – মানাওস। কোভিড আসার পর তেমন কোন রেস্ট্রিকশান না দেয়ার ফলে মনমত ছড়াতে পারে কোভিড। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মানাওসের হাসপাতাল ও বিশেষ করে ব্লাড ডোনেশানের ডাটা থেকে অনুমান করতে পারে যে কত মানুষের কোভিড হয়েছে, কত মানুষ মারা গিয়েছে ইত্যাদি।

১. ব্লাড ডোনাশান থেকে অনুমান করা হয় যে জুন মাসের মধ্যে মানাওসের ৬৬% এবং অক্টবরের মধ্যে ৭৬% মানুষের কোভিড হয় (সিম্পটমেটিক এসিম্পটমেটিক মিলিয়ে)।

২. মানাওসের পপুলেশান অনেকটা বাংলাদেশের মত – অধিকাংশ মানুষ ইয়াং, ডেংগি আউটব্রেক বেশ কয়েকবার হয়েছে এবং এর কারনেই হয়ত মৃত্যুর হার ছিল ০.১৭-০.২৮%। এর ব্যাতিক্রম সান পাওলোতে মৃত্যুর হার ০. ৪৬-০.৭২% – প্রায় দ্বীগুনেরও বেশি। সান পাওলো ব্রাজিলের ইউরোপিয়ান শহর বলতে পারেন – মানুষের বয়স বেশি, কোমর্বিডিটি বেশি ইত্যাদি।

৩. এতে মৃত্যুর হার কম মনে হলেও ২০২০ এ প্রায় ৪.৫ গুন বেশি মৃত্যু হয়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায়। একদম ইয়াং পপুলেশান হলেও, কোভিডের মৃত্যুর হার ০.১৭% চোখে কম মনে হলেও ইয়াং পপুলেশানে অন্যান্য কোন রোগে এত মৃত্যু হয়না কিন্তু (ইবোলা ইত্যাদি ছাড়া)। তাই মৃত্যুর হার কম হলেও মৃত্যু কম হচ্ছে তা না কিন্তু। অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০২০ এ অনেক বেশি মানুষ মারা গিয়েছে।

৪. এত মানুষ ইনফেক্টেড হওয়ার পরেও কিন্তু তাদের সেকন্ড ওয়েইভ হচ্ছে। অনেকটা বাংলাদেশেও দেখেছিলাম আমরা যে অগাষ্ট-সেপ্টেম্বরে সংক্রমন কমে গিয়ে আবার অক্টবর-নভেম্বরে বেড়ে যায় সংক্রমন। এটা কি ডিরেক্টি কিন্তু ব্যাখ্যা করা যাচ্ছিল না।

৫. যদিও আগে ধরা হত যে ৬০-৭০% মানুষ ইনফেক্টেড হলে হার্ড ইমিউনিটি হয়ে যাবে, তা কিন্তু হয়নাই মানাওসে। এটা হতে পারে যে আসলে আরো বেশি ইনফেকশান লাগবে হের্ড ইমিউনিটি হতে অথবা যে ৭৬% ইনফেক্টেড অনুমানটা ভুল, কিন্তু এটাও সম্ভব যে সময় যেতে যেতে মানুষ আবার রিইনফেক্টেড হচ্ছে, ইমিউনিটি চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে যাদের প্রথমবার একদম এসিম্পটোমেটিক হয়েছে, তা নিয়ে বেশ কিছু গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে তাদের এন্টিবডি বেশিদিন থাকেনা। বাংলাদেশে, এস্পেশালি ডাক্তারদের মধ্যে কিন্তু অনেক রি-ইনফেকশান দেখা গিয়েছে (কারন এদের অনেকের একাধিকবার টেস্ট হয়েছে, অন্য অনেকেরতো এত টেস্ট হয়নাই)

৬. আরেকটা ব্যাপার অনেকেই আমলে নিচ্ছেনা হলো লং কোভিড সিন্ড্রোম। কোভিড হয়ে বেঁচে গেলেইতো হলোনা। যাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগছে তাদের অনেকদিন সময় লাগছে আবার ফিট হতে। বাসায় ভাল হয়ে গেলেও প্রায় ১-২ মাস লাগে একদম ১০০% এ ফিরে যেতে। পরিবারের একজন আইসিইউতে ভর্তি হওয়া মানে লাইফ সেভিংস একবারেই শেষ। অনেকের ঋন ও নেয়া লাগছে। তাছাড়া দেশে কয়েকবার আইসিইউ বেড ক্যাপাসিটি ফুল হয়ে গিয়েছে।

৭. শেষ কথা সহজ – ন্যাচারাল ইনফেকশান দিয়ে হের্ড ইমিউনিটি হবেনা এটাই বোঝা গিয়েছে এই স্টাডিতে। ভাল চিকিৎসা, সাস্থ্য ব্যবস্থা আপস্কিল করা এবং এগ্রেসিভ টেস্টিং এবং আইসোলেশান দিয়েই মিটিগেট করতে হবে (খেয়াল করবেন আমি লকডাউন ছাড়া এডভাইস দিচ্ছি কারন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটা ডিফিকাল্ট ধরে রাখা)।

মুল পেপার এর লিংক

Dr. Raiiq Ridwan
Emergency Medicine, West Suffolk Hospital
Undergraduate Clinical Supervisor, University of Cambridge

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *