করোনা বলদদের গল্প – ২: মায়ানমারের পাদ্রী

” খৃষ্টানদের কখনো করোনাভাইরাস আক্রমন করবে না। কারন, খৃষ্টানরা হল করোনা প্রতিরোধী। হাতে বাইবেল থাকলে আর হৃদয়ে যিশুকে লালন করলে কোনও রোগ আসবে না। এই মহামারীতে কেউ আরোগ্য এবং শান্তি এনে দিতে পারলে তা পারেন কেবল যিশু খ্রীস্ট।”

—এই কথা বলেছিলেন বার্মিজ-কানাডিয়ান পাদ্রী ডেভিড লাহ।

কানাডাতে তিনি এই কথা বলে খুব বেশি বেইল পান নি। তার আবার যাতায়াত ছিল আদি মার্তৃভূমি মায়ানমারের সাথে। মার্চ মাসে মায়ানমার সরকার করোনা ভাইরাস ঠ্যাকানোর জন্য ধর্মীয় সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল।

কিন্তু ডেভিড লাহ সরকারী আইন না মেনে ৭ই এপ্রিল ইয়াঙ্গুন শহরে এক বড় ধর্মীয় সমাবেশ ডেকেছিলেন ।

ওই মিটিং শেষে ৬৭ জন করোনা পজিটিভ হন। এমনকি ডেভিড লাহ’র নিজের ও করোনা ধরা পড়ে। সম্ভবত ডেভিড এর হাতে বাইবেল আর হৃদয়ে যিশু ছিল না, তাই তাকে করোনায় ধরেছে।

এরপরে ডেভিডকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে সূস্থ হওয়ার পরে পুলিশ অফিসিয়ালি তাকে এ্যারেস্ট করে।

সরকারি বিধি নিষেধ না মানার কারনে তাকে ৩ মাসের জন্য জেল দিয়েছে মায়ানমারের আদালত। হাতকড়া পরিয়ে এই ফাদারকে পুলিশ জেলখানায় নিয়ে যাচ্ছে —– এমন ছবি ছাপা হয়েছে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়।

অনেকে অবশ্য এই শাস্তিকে কম বলছেন। প্রকাশ্য স্থানে জনসভা করা ছাড়াও ডেভিড বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিওতে কভিড মহামারী সম্পর্কে অনেক গুজব ছড়িয়েছেন তিনি ।যেমন-

”If you hear the sermon of God, the virus will never come to you; I declare it with the soul of Jesus Christ.”

“I can guarantee that the church that goes by Jesus’ teachings, there will be no infection.”

“I can guarantee if your church is walking the true path, and you have the whole of Christ in your heart, you will not get the disease,”

তার এসব গ্যারান্টি যে কোনো কাজে লাগেনি, তার প্রমান ডেভিড লাহ নিজেই। সে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, এবং হাসপাতালে গিয়ে আধুনিক চিকিৎসার সাহায্য নিয়েই সূস্থ হয়েছে।

শুধু মায়ানমার নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেই বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু একইভাবে মানুষকে মিসগাইড করছে।

গুরুরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারছে না করোনা থেকে, কিন্তু শিষ্যদের কে ভুল আশ্বাস দিচ্ছে। ফলে শিষ্যরা ভয় ডর বিহীন ঘুরে বেড়াচ্ছে, করোনা সংগক্রমনের ঝুকি আরো বাড়াচ্ছে।

রেফারেন্স-

Invest in Social

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *